ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পরবর্তী নতুন করে বেড়িবাঁধ ভেঙে পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরের দিন গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে সোলাদানা ও লতা ইউনিয়নসহ পৌর সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা নতুনভাবে প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েকটি গ্রামের শত শত পরিবার। এর আগে বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে ১০টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধ মেরামত ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুদিনে প্লাবিত হয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৮৬ কিলোমিটার রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ এবং ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৬০ হেক্টর চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ টাকার মৎস্য ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় ভেঙে পড়েছে পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১০ হাজার।
সোলাদানা ইউনিয়নের কয়েকটি আবাসন প্রকল্পের কয়েকশ পরিবার বর্তমানে পানির সঙ্গে বসবাস করছে। এখানকার রাস্তাঘাট, পুকুর-জলাশয়, নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখানকার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। পতন আবাসনের সালমা বেগম বলেন, আমাদের জীবনব্যবস্থা এখন জোয়ার-ভাটার সঙ্গে উঠানামা করছে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, জোয়ার হলেই ঘরের ভেতর দুই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। আমরা সরকারের কাছে কোনো ত্রাণ চাই না, আমাদের দাবি আমাদের বাঁধগুলো টেকসই করা হোক।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। তিনি সোলাদানা ইউনিয়নের নুনিয়াপাড়া, পতন, পারিশামারী, বেতবুনিয়াসহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত কাজ তদারকি ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার ওসি এজাজ শফী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।
পরিদর্শনকালে ইউএনও বলেন, বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বুধবার অনেক এলাকার বাঁধ মেরামতও করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরের জোয়ারে কয়েকটি এলাকা নতুনভাবে প্লাবিত হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী কিছুটা বিপাকে পড়তে হয়। তবে আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবো।





