‘মা মরে গেলে আমার কী হবে’

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

‘মা মরে গেলে আমার কী হবে’

  • শাহিদা সাম্য লীনা, ফেনী সদর
  • প্রকাশিত ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

জেলার পরশুরাম থানার নিজকালিকাপুর গ্রামে নানার বাড়িতে অসহায় জীবনযাপন করছেন রাশেদ হোসেন (২৪)। ২০১৩ সালে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা শিকার হয়ে তার ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি হয়ে আজীবন পঙ্গত্ব বরণ করেন তিনি। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে এক প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই দীর্ঘদিন ছিলেন। তিন বছর আগে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান কাছ থেকে একটি হুইল চেয়ার পেলেও তা বৃদ্ধ মায়ের ঠেলার সহযোগিতায় চলতে হয় তাকে। সারাদিন মা ভিক্ষা করে এনে ছেলেকে প্রাকৃতিক কাজে সহায়তা হতে শুরু করে ভাত খাইয়ে দিতে হয়। মা যতক্ষণ বাইরে থাকে ততক্ষণ ঘরে বিছানায়, নয়তো যেখানেই রেখে যাওয়া হয় সেভাবেই পড়ে থাকতে হয় তাকে। বৃদ্ধ মায়ের কষ্ট তরুণ ছেলে হয়ে সহ্য করতে না পেরে সরকার ও বিত্তবানদের সাহায্য চেয়েছেন রাশেদ। তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড চালু হলেও এলাকার ইউপি মেম্বার তা নিয়ে আর ফেরত দেননি। ভাতার ব্যাপারে সমাজকল্যাণ অফিসে যোগাযোগ করলে কার্ড ছাড়া সে ভাতাও ভোগ করতে পারছেন না। তার বাবা মৃত আব্দুল মালেক ও মা হাজেরা খাতুন। এক বোন বিয়ে হয়ে গেছে দুর্ঘটনার আগেই। তারা কেউ তাদের খোঁজ খবর নেয় না।

২৪ বছরের এই তরুণ বলেন, আমি সারাজীবন পঙ্গু, বৃদ্ধ মা ছাড়া কেউ নেই আমার। মা ভিক্ষা করার কারণে দুবেলার আহার জুটছে, কোনোরকম বেঁচে আছি। মা মরে গেলে আমার কী হবে? তিনি বলেন, বৃদ্ধ মাকে আর কষ্ট দিতে চাই না। একটা অটো হুইল চেয়ার ও সরকারি ভাতা পেলে আমাদের মা ছেলের জীবন বেঁচে যেত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads