ভাস্কর শিল্পী আইভি জামান
কটিয়াদির উপজেলার একটি গ্রাম সহশ্রাম। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। ছায়াঘেরা, পাখিভাকা অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই গ্রামটি। ডাক্তার ছায়মদ্দিন খান সহশ্রাম ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সময়টা ছিল উনিশ-শ ত্রিশ শতকের দিকে ব্রিটিশ আমলের। তিনি গ্রামের লোকজনের সেবা করতে থাকলেন। তখন গ্রামে ছনের ঘর ছাড়া আর কিছুই দেখা যেত না। কারণ এই অঞ্চলের মানুষ পড়াশোনার চেয়ে কৃষি কাজ করতে বেশি উৎসাহিত ছিল। পড়াশোনা করতে কলকাতা যেতে হতো। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে হিন্দুপ্রধান এলাকায় বেশি লেখাপড়ায় অগ্রসর ছিল। তাদের এলাকায় স্কুল বড় সড় টিনের চালের ঘরবাড়ি দেখতে পাওয়া যেত। সেই সব ডাক্তার ছায়মউদ্দিন খানকে ভীষণ পীড়া দিত।
তিনি বললেন, ‘আমি নিজে বাড়ির বড়ো ছেলে ছিলাম। আমি কৃষিকাজের চেয়ে বেশি পড়াশোনার দিকে উৎসাহিত ছিলাম। শুরু হলো পথচলা। এখানে স্কুল শেষ করে কলকাতা দশ বছর থেকে গ্রামের লোকজনের সেবা করতে থাকলেন। তখন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে প্রেসিডেন্ট বলা হতো। নিজেকে যতদূর সম্ভব শিক্ষিত করে উনি গ্রামের উন্নতির পথে নজর দিতে চেষ্টা করতে থাকলেন। পরপর তিনি চারবার গ্রামের লোকজনের সেবা করার সুযোগও পেলেন। প্রায় কুড়ি বছর। হেমেন্দ্র মজুমদার পাশের গ্রামে গচিহাটা জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছবি এঁকে ভারতবর্ষে অনেক সুনাম অর্জন করেন। কলকাতা জাদুঘরে তাঁর কাজ আজো শোভা পাচ্ছে। সেসব সহশ্রাম গ্রামের লোকজনের কাছে কোনো খবরই ছিল না। তিনি গচিহাটা গ্রামের নানা বিষয় নিয়ে অনেক ছবি এঁকেছেন। প্রায় অধিকাংশ সময় কলকাতায় থাকতেন। এ সবই আসলে সহশ্রাম ইউনিয়নের লোকজনের ধারণাই ছিল না ওই সময়। হিন্দুরা ছবি আঁকবে গান গাইবে। তবে খুব মিলেমিশে থাকত হিন্দু মুসলিম। তখনও হামিদুজ্জামান খান-এর জন্মই হয়নি। হামিদুজ্জামানের জন্ম উনিশ-শ পঁয়তাল্লিশে। তখন ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলো। সেই সময় সহশ্রাম ইউনিয়নেও কিছুটা দাঙ্গার প্রভাব বিস্তার করে। তখন ডাক্তার ছায়মউদ্দিন খান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট থাকাতে পুরো দায়িত্ব উনার ওপর এসে যায়। তখন তিনি রাতের অন্ধকারে শীতকালে নিজের গায়ের চাদরের নিচে করে প্রায় এক শত হিন্দুপ্রধান এলাকার লোকজনকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে চেষ্টা করেন। এদিকে পাশের ঘরে হামিদুজ্জামান আতুর ঘরে। তখন শিল্পী হেমেন্দ্র মজুমদার কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। উনিশ আটচল্লিশে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হামিদুজ্জামান শিশু বয়স থেকেই হেমেন্দ্র মজুমদারের গল্প শুনতে শুনতে বেড়ে ওঠেন। হামিদুজ্জামান তাঁর ছবির ফ্রেম টিনের বাংলো বাড়ি ও স্টুডিও দেখেছেন। বনগ্রামে আনন্দ কিশোর হাইস্কুলে হেমেন্দ্র মজুমদার ছোট বেলায় কিছু দিন পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। শিল্পী হামিদুজ্জামান সেই একই আনন্দ কিশোর হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন। প্রায় সাত একর জায়গায় অডিটোরিয়াম মাঠসহ স্কুলটির অবস্থান।





