জনসমাগম রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আশকোনা হজক্যাম্পে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ।
শনিবার (১৪ মার্চ) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এর আগে, ইতালি থেকে আগতরা হজ ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে কর্তৃপক্ষের সাথে যাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের হট্টগোল বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সেখানে সেনা সদস্যও মোতায়েন করা হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা দুইটা থেকে ইতালিফেরত বাংলাদেশি ও তাঁদের অভিভাবকেরা এই বিক্ষোভ শুরু করেন। হজক্যাম্প থেকে ইতালিফেরত লোকজন বেরিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিবার, স্বজন সর্বোপরি দেশের মানুষের স্বার্থে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ জানানো হলেও সদ্য ইতালি ফেরত ১৪২ জন সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেয়া হলে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সেনাসদস্য।
শনিবার ইতালির রোম থেকে দেশে ফেরা ১৪২ জন বাংলাদেশির সাথে দেশটি থেকে আসা আরও ৩৪ জন যোগ হয়েছে আসকোনা হজক্যাম্পে।
এর আগে, ইতালির রোম থেকে দেশে ফেরা ১৪২ জন বাংলাদেশিকে প্রয়োজনে সরকারি তত্ত্বাবধানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বর্তমানে তাদের আশকোনা হজক্যাম্পে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটিতে থাকা ১৪২ জনের শরীরে প্রাথমিকভাবে করোনার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।
আইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন পাশাপাশিই হবে। যদি এদেরকে আমরা তথ্য সংগ্রহের পর দেখি যে তারা বাড়িতে গিয়ে সেল্ফ কোয়ারেন্টাইন করতে পারবে, তাহলে তারা বাড়িতে যাবে। এদের মধ্যে কারো সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে যদি সমস্যা হয় তাহলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানান, ইতালি ফেরত প্রত্যেককেই সরকারি তত্ত্বাবধানে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক।





