ঐতিহাসিক ‘জাহাজমারা’ স্মৃতি স্থাপনাটি এখন বেহাল দশা

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

অযত্ন অবহেলা দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত

ঐতিহাসিক ‘জাহাজমারা’ স্মৃতি স্থাপনাটি এখন বেহাল দশা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০২১

আজ বুধবার ১১ আগস্ট ঐতিহাসিক জাহাজমারা দিবস। এ দিবসটিকে ঘিরে টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন যমুনা নদীর পূর্ব তীরে সিরাজকান্দি এলাকায় যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে সেখানে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ১৯৭১ সালে এইদিনে নোঙর করা পাকিস্তানের ২টি অস্ত্রবাহী জাহাজ এস.টি রাজন ও এস.ইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এল.সি-৩ তেকমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে আক্রমণ চালায় মুক্তিবাহিনী। মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধে ধ্বংস করা হয় পাকবাহিনীর বিপুল অস্ত্র। এসময় প্রায় ৫ শতাধিক নৌকা ভর্তি অস্ত্র জব্দ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।তাদের এ জয়ে অস্ত্র সংকটে অনেকটা ভেঙে পড়ে পাকিস্তানী সেনাদের মনোবল। অস্ত্র উদ্ধারের পরেই ধ্বংস করা হয় জাহাজ দুটি।

পাকিস্তানের অস্ত্রবাহী জাহাজ ধ্বংসের ঐতিহাসিক সেই স্মৃতি ধরে রাখতে ৮ বছর আগে স্থাপনাটি নির্মিত হলেও সংরক্ষণেরকোন উদ্যোগ নেই। এছাড়া এটি নির্মাণের শুরু থেকেই নানা ত্রুটি ও দায়সারা কাজের অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।সেদিনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ স্মরণে ২০১৩ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জাহাজমারা’ স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণ করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে কাজের শুরু থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে স্থাপনা করা হয়েছে গৌরবময় এ স্মৃতিটি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলীম তালুকদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের শপথ ছিল নিজের জীবন দিয়ে হলেও দেশ স্বাধীন করতে হবে। অবশেষে পাকবাহিনীকে হটিয়ে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি আমরা। সেই যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভকে এভাবে অবহেলায় ফেলা রাখা দুঃখজনক। গৌরবময় এই স্মৃতিস্তম্ভটিকে বেহাল অবস্থা দেখে হতাশ এলাকাবাসীরাও। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আতাউল গনি গণমাধ্যমকে বলেন, যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্মৃতিস্তম্ভ পুনর্বিন্যাস করে স্থাপন করতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব। তহবিল সংগ্রহ করে জাহাজমারা স্তম্ভটি সংস্কার ও মেরামত করবো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads