বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১২ March ২০১৯

প্রিয়ক আর তামারার নামে হচ্ছে মসজিদ মাদ্রাসা হাসপাতাল

মা ফিরুজা বেগমের দৃষ্টি থাকে উত্তরের দেয়ালে

গাজীপুরের নিজ বাড়িতে প্রিয়কের মা ফিরুজা বেগম ছবি: বাংলাদেশের খবর


আজ ১২ই মার্চ নেপালে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এক বছর পূর্তি। গত বছরের এ দিনেই নেপালের রাজধানীর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি বিমান অবতরনের সময় বিধ্বস্ত হয়ে ৫১ আরোহী নিহত হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ জনই ছিল বাংলাদেশি।  ওই দিন ১২.৫১ মিনিটে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭১ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বিমানটি। এ দুর্ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের এফ এইচ প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যা তামারা প্রিয়ক প্রিয়ন্ময়ী নিহত হয়। এ দুর্ঘটনায় প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি অলৌকিক ভাবে প্রানে বেঁচে যান। গুরুতর আহত হয় প্রিয়কের মামাত ভাই এম এইচ মাসুম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার স্বর্ণা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরহাওলা গ্রামের নিহত প্রিয়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় প্রিয়কের মা ফিরুজা বেগম বাসার নিচতলায় কয়েকজন মৌলভী নিয়ে বসে আছে। একমাত্র সন্তান প্রিয়ককে হারানোর এক বছর আজ। ক্ষণে ক্ষণে তার দৃষ্টি পড়ছে ঘরের উত্তরের দেয়ালে। তাকিয়েই দম বন্ধ করা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি। ওই দেয়ালেই লাগানো রয়েছে অকালে অসময়ে চলে যাওয়া এক মাত্র ছেলে প্রিয়ক আর ছোট্ট ফুটফুটে আড়াই বছরের নাতনী তামারা প্রিয়কের বেশ কিছু ছবি। মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদের প্রস্তুতি চলছিল আজ।

এরই ফাঁকে এ প্রতিবেদককে জানান,  প্রথম মৃত্যবার্ষিকীর ছোট্ট পরিসরের আয়োজনের কথা। আগামীর পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে নিহত এক মাত্র সন্তান প্রিয়ক আর নাতনী তামারা প্রিয়কের নামে মসজিদ। তৈরি হবে এতিমখানা মাদ্রাসা। এরই মধ্যে মসজিদের বেশ কিছু কাজ এগিয়ে গেছে। আগামী বছরেই শুরু হবে মাদ্রাসা এতিমখানার কাজ। এসব বলতে বলতে এক সময় ফিরুজা বেগমের কণ্ঠ ভারি হয়ে ওঠে,চোখের কোনে জলের অস্তিত্ব চলে আসে। কিছু সময় চুপ থেকে নিজেকে একটু সামাল দিয়ে বলেন, আমার একমাত্র সন্তান নেই, নেই কলিজার টুকরা নাতনীও। কি হবে এ সব সহায় সম্পত্তি দিয়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি উইল করে (ওয়াকফ) দিব মসজিদ ও এতিমখানার নামে। সন্তান না থাকায় শরীয়াহমত পাওনাদারদের অংশও বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ইউএস বাংলার কাছ থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েই শুরু করেন মসজিদ এতিমখানার প্রাথমিক কাজ। ক্ষতিপূরণের টাকার অংশ অন্যরাও পেয়েছে। পেয়েছেন প্রিয়কের স্ত্রী অ্যানিও। পরে আরো জমি বিক্রি করে এ কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।

ফিরুজা বেগম বলেন, ৩১ টি রুমের ভাড়ার সকল টাকা এতিমখানায় খরচ করা হবে। এ সব সম্পত্তিও ওয়াকফ করা হবে।

তিনি জানান, প্রিয়কের প্রিয় এ বাড়িটিও একটি হাসপাতাল বানাতে চাই।

কেমন করে সময় কাটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে নামাজ আদায় করে করে হাঁটতে হাঁটতে আশপাশের আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি যাই। সবার খোঁজ খবর রাখি। কাছেই বাবার বাড়ি। তিনিও বেঁচে আছেন। তার সাথে সময় কাটায় গল্প করে। অনেক আত্মীয় স্বজনরাও খোঁজ খবর রাখেন আমার। সঙ্গী হিসাবে সব সময়ই গৃহপরীচিকা  ছবি থাকেন। আর সময় কাটে দোতলায় ব্যালকনিতে বসে ছেলে আর নাতনীর কবর দেখে দেখে।

দোয়া ও মিল্লাদে আসা প্রিয়কের বন্ধুরা বলেন, প্রিয়ক খুবই মিশুক স্বভাবের ছিল। সদা হাস্যোজ্জল নরম মনের মানুষ। মানুষকে সহজেই আপন করার শক্তি ছিল তার প্রখর। ছবি তোলা ছিল তার প্রিয় শখ। ছবির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অবহেলিত চিত্র ধারণ, সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই ছিল তার শখ। যেখানেই যেত সঙ্গী হতো প্রিয় ক্যামেরাটা


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১