বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ৩১ March ২০১৯

‘পুলিশ-বিজিবি’ টহল দল লক্ষ্য করে গুলি, রোহিঙ্গা নারীসহ নিহত ৩

টেকনাফে পৃথক বন্দুক যু্দ্ধে নিহত রোহিঙ্গা নারী ও দুই মাদক ব্যবসায়ী ছবি : বাংলাদেশের খবর


পুলিশ-বিজিবি টহল দলের উপর গুলি বষর্ণকারী ৩ ইয়াবা পাচারকারী নিহত হয়েছে। আজ রোববার ভোরে টেকনাফের হ্নীলা মৌলভী বাজার এরাকায় পুলিশ সদস্য ও হ্নীলা দমদমিয়া এলাকায় বিজিবি টহল দলের উপর গুলিবর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। এ ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনীর ৩ জন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১ জন সদস্য আহত হয়। পৃথক ঘটনাস্থল হতে গুলিবিদ্ধ নারীসহ ৩ জন ব্যক্তি, ইয়াবা, অস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত পাচারকারীদের পরিচয় সনাক্ত করা হয়। এরা হচ্ছে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা আলী আকবর পাড়ার মিয়া হোছনের পুত্র মাহমুদুর রহমান (২৮) ও হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া মইন্যাজুমের নুরুল ইসলামের পুত্র মোহাম্মদ আবছার (২৫) ও মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার রাইম্যাবিলের বদরুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২০)।

জানা যায়, রোববার ভোর রাতে উপজেলার হ্নীলা মৌলভীবাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ইয়াবা কারবারী দু’গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের সুত্রপাত হয়। এ ধরনের খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে এ সময় মাদক কারবারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে অর্ধ শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই দীপক, এএসআই আমির ও কনস্টেবল শরীফুল আহত হয়। এ পর্যায়ে মাদক কারবারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৬টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র, ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১৮টি তাজা কার্তুজসহ রক্তাক্ত ও গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ আহত দু’জনকে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার নেওয়ার পথে তারা মারা যায়। মৃতদেহ ২টি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদক কারবারী দু’গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে তারা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল হতে অস্ত্র, বুলেট ও ইয়াবাসহ রক্তাক্ত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে ওই দু’জন মারা যায়। নিহতরা মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী ছিল। এই ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে পৃথক মামলা রুজু করা হবে বলেও জানান তিনি।  

অপরদিকে, রোববার ভোররাত ৪টার দিকে নাফনদীতে ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দমদমিয়া বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা নাফনদীতে টহল দেওয়ার সময় ওমরখাল পয়েন্ট দিয়ে নৌকাযোগে একদল রোহিঙ্গা ইয়াবার চালান নিয়ে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে বিজিবির উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে এবং ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এসময় এক বিজিবি সদস্য আহত হয়। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। এক পযার্য়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল হতে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গা নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। নিহত মহিলার ভ্যানিটি ব্যাগ ও ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা এবং ২টি কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর নিহত মহিলা মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার রাইম্যাবিলের বদরুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২০) এবং বর্তমানে লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির ব্লক নং-সি/৬ এর ৪০ নং রোমে বসবাস করে আসছিলো বলে নিশ্চিত করেন।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযানে মাদকের বিজিবি-পাচারকারী গুলিবিনিময়ের ঘটনায় ইয়াবার চালান বহনকারী রোহিঙ্গা নারী নিহত হয়। ঘটনাস্থল হতে ইয়াবা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১