বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৫ July ২০১৯

টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠক

নদী রক্ষায় উচ্ছেদ অব্যাহত রাখার আহ্বান

# তীরে ৪০ কিলোমিটার কি-ওয়ালসহ অবকাঠামো নির্মাণ শুরু # নিলামে সাড়ে ৮ কোটি এবং জরিমানা আদায় ২৭ লাখ টাকা


অতীতে কোনো সময় নদী তীরে এরকম উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গৃহীত নদী তীরে চলমান উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে নদীর নাব্য ও গতিপ্রবাহ রক্ষাসংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটি। এছাড়া চলমান উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও আহ্বান জাানিয়েছে কমিটি।

গতকাল বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর নাব্য এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ  প্রদান, সুপারিশ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও টাস্কফোর্সের সভাপতি খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ সময় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, ঢাকার পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর উচ্ছেদকৃত তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার, বনায়ন, তিনটি ইকোপার্ক, ছয়টি পন্টন, ৪০ কিলোমিটার কি-ওয়াল, ১৯টি আরসিসি জেটি, ৪০টি স্পার্ড ও ৪০৯টি বসার বেঞ্চ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ২৩৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ঢাকার চারপাশে নদীর তীরভূমির প্রায় ১৪৫ দশমিক ১ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় নিলামের মাধ্যমে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মাধ্যমে ২৭ লাখ ০৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সভায় আরো জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দেশের নদীগুলোর তীরবর্তী সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ৯ হাজার ৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৫৫টি পিলার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে বিতর্কিত ২ হাজার ১১৪টি পিলারের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৬১২ দশমিক ২২ একর জমি উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ঢাকার চারপাশে ৩৭৮ দশমিক ৬২ একর এবং নারায়ণগঞ্জে ২৩৩ দশমিক ৬০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১৫ হাজার ৫৯২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১২ হাজার ৪৭৮টি এবং নারায়ণগঞ্জে ৩ হাজার ১১৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

টাস্কফোর্স সভার তথ্যমতে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর নাব্য বৃদ্ধি এবং গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বর্তমানে সাতটি প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেসব নদ-নদীতে খনন কাজ চলমান রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে— খাগদোন, বিষখালী, কীর্তনখোলা, জাদুকাটা, রক্তি, রকশোনালা, কর্ণপাড়াখাল, লোহালিয়া, মনু, পিয়ান, আড়িয়াল খাঁ, ইছামতি, তালতলা খাল, পালং, নড়িয়াখাল, পুরাতন দুবালদিয়া, শীতলক্ষ্যা, কালিগঙ্গা, শৈদাহ, ঘাঘট, মধুমতি, কাচিকাটাখাল, পাড়কোনা, তুরাগ, কুমার, ধলেশ্বরী, পুরাতন  ব্রহ্মপুত্র, তিতাস, কংস, বাউলাই, সুরমা, মগড়া, পাগলা, বুড়ি, ভোগাই-কংস, নতুন ডাকাতিয়া, বাঁকখালী, ভৈরব, আত্রাই, ভোলা, পালরদি, কর্ণতলী, পদ্মা, মেঘনা, গাবখানখাল, কর্ণফুলী চ্যানেল, পশুর চ্যানেল, কাজল-তেঁতুলিয়া।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১