বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৮ July ২০১৯

জেলেদের মুখে হাসি

ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ


সাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় গোটা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় কয়েক লাখ জেলে পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় এ হাসি ট্রলার মালিক ও আড়তদারদের মুখেও। দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা (অবরোধ) শেষ হওয়ায় রুপালি ইলিশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটায় এখন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার।

সরেজমিন পারথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে গিয়ে জানা গেছে, ইলিশ মৌসুমে দীর্ঘ অপেক্ষার পর গভীর বঙ্গোপসাগরে গত কয়েকদিন থেকে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে পার্শ্ববর্তী নদীতে ইলিশ কম পাওয়া গেলেও সুস্বাদু হওয়ায় এ মাছগুলোর দাম অনেক বেশি। এ নদীর মাছের প্রতি মণ বিক্রি হয় ৩০ হাজার টাকা দরে। গভীর সমুদ্র থেকে যে ট্রলারগুলো আড়ত ফিরে আসে তা ৭ থেকে ৮শ গ্রামের ইলিশ। প্রতি মণ বিক্রি হয় ১৮ হাজার টাকা করে। আবার ৪ থেকে ৫শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয় ১২ হাজার টাকা দরে। প্রায় ট্রলারেই প্রতি ট্রিপে ৪ থেকে ৮ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করছে। এ ইলিশগুলো পাথরঘাটার মৎস্য আড়ত থেকে রপ্তানিকারকরা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করছেন।

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৭০ টন মাছ বিকিকিনি হয়েছে যা থেকে এ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০ টাকা। আল্লার দান মৎস্য আড়তের মালিক যুগল কর্মকার জানান, ৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ মৌসুমে অনেক টাকার লোকসান দিয়েছি। গত ৩ থেকে ৪ দিন থেকে মৎস্য আড়তগুলোতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে। এখন যে রকম মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে তাতে মনে হয় পেছনের ধারদেনা শোধ করে উঠতে পারবে বলেও জানান তারা।

গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে আসা এফবি গোলাপফুল ট্রলারের মাঝি হাফিজুল ইসলাম ও এফবি আলম-২ ট্রলারের মাঝি আবদুর রহিম জানান, সাগরে এখন প্রচুর পরিমাণ ইলিশ মাছ আছে। আমরা প্রত্যেকটা ট্রলারে অল্প করে জাল ফেলতে পেরেছি তাতেই ৪ হাজার মাছ পেয়েছি, যা ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে বেশি সময় থাকতে পারিনি; ঘাটে চলে আসতে হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আমাদের ট্রলারে ১০ থেকে ১২ হাজার মাছ জালে ধরা পড়ত যা ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারতাম। তারা আরো জানান, আমাদের দেশে ৬৫ দিন অবরোধ দেওয়ার কারণে ভারতীয় ট্রলারগুলো বাংলাদেশি সীমানায় এসে মাছ ধরেছে। এই অবরোধ যদি ভারতের সঙ্গে একত্রে দেওয়া হতো তবে আমরা আরো বেশি মাছ ধরতে পারতাম।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসির শ্রমিক সিদ্দিক, জুয়েল ও রিপন জানান, এক সপ্তাহ আগেও এই মাছের অর্ধেক পরিমাণও ওঠেনি। অবরোধ থাকায় প্রায় পুরো ইলিশ মৌসুমেই আমাদের অলস সময় কাটাতে হয়েছে।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মার্কেটিং অফিসার মো. আহম্মেদ উল্যাহ জানান, গত ৪ দিনে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪২ টন ইলিশ মাছ বিকিকিনি হয়েছে, যা থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০ টাকা। এভাবে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ উঠলে জেলেদের মুখে যেমন হাসি ফুটবে তেমনি সরকারি কোষাগারেও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জমা হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১