আপডেট : ৩০ August ২০১৯
ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়ানোর পেছনে এডিস এলবোপিক্টাস মশার একটি প্রজাতি দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গু ছড়ানোর সঙ্গে যে দুই ধরনের মশা জড়িত তার একটি এই এডিস এলবোপিক্টাস। অন্যটি এডিস এজিপ্টাই। এজিপ্টাই ঢাকা বা শহরাঞ্চলে বেশি থাকে। আর এর বাইরে গ্রামাঞ্চলে এডিস এলবোপিক্টাসের ঘনত্ব বেশি দেখা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, এডিস এলবোপিক্টাস যেহেতু মহামারী আকারে রোগ ছড়াতে পারে, তাই এটিই রোগ ছড়াচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। তবে এখনো এর গবেষণালব্ধ তথ্য আমাদের কাছে নেই। এডিস এলবোপিক্টাস মশার কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ মশা ঘরের ভেতরে না, বাইরে থাকে। আর এ কারণেই ঘরের ভেতরে থাকলে এ মশা কামড়ায় না। বাইরে বের হলে কামড়ায়। বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে এডিস এলবোপিক্টাস কোথায় জন্মায়। এডিস এজিপ্টাইয়ের মতো এটি যেকোনো জায়গায় স্বচ্ছ পানি পেলেই বংশবৃদ্ধি করে না। বরং এর জন্য বিশেষ ধরনের পরিবেশের দরকার হয়। এ ধরনের মশা জন্মানোর সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে গাছের কোটর। এছাড়া বাঁশ কাটার পর সেখানে থেকে যাওয়া গোড়ায় যে পানি জমে সেখানে এলবোপিক্টাস মশা বেশি হয়। এছাড়া ন্যাচারাল কনটেইনার হিসেবে পরিচিত কলাগাছের দুটো পাতার মাঝখানে বা কচু গাছের দুটো পাতার মাঝখানে জমে থাকা পানিতে এলবোপিক্টাস জন্মায়। এলবোপিক্টাসের বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে মানুষ কম জানে বলে এর নিয়ন্ত্রণও বেশি কঠিন। তাই এটি যদি ভেক্টোরিয়াল ক্যাপাসিটি (আক্রান্ত করার ক্ষমতা) খুব বেশি পেয়ে যায় তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। এলবোপিক্টাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রকৃতিতে থাকা ন্যাচারাল কনটেইনার বা পাত্রগুলোকে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে বন্ধ করতে হবে। গাছের কোটর মাটি দিয়ে বন্ধ করে, কলাগাছের পাতায় কোনা দিয়ে একটু কেটে দিলে এবং কচুগাছের বড় বড় ডগাগুলো ছেঁটে দিলে পানি জমতে পারবে না। এ জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যেটা তা হলো জনসচেতনতা। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার ক্ষেত্রে তিনি সাতক্ষীরা জেলার উদাহরণ টানেন। বলেন, সেখানকার জেলা প্রশাসন, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নসহ মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে ডেকে ওয়ার্কশপ করিয়েছে। যেখানে এডিস এজিপ্টাই এবং এডিস এলবোপিক্টাসের জন্ম এবং এগুলো নির্মূলের উপায়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ যদি সব জেলাতে নেওয়া যায় তাহলে ডেঙ্গু নির্মূল অনেক বেশি সহজ হবে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগ সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, থেমে থেমে বৃষ্টি হলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের গত বুধবারের হিসাব বলছে, এদিন ঢাকার ভেতরে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৫৫১ জন। ঢাকার বাইরে নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৬০৬ জন। এ মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। আর এ পর্যন্ত এ রোগে ৫২টি মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১