বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৬ September ২০১৯

ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন

প্রশাসনের অবহেলা, দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বালুদস্যুরা


মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অবৈধ ভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। প্রশাসনের অবহেলায় বালুদস্যুরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর গভীর থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলন করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া নদী তীরবর্তী রেকর্ডকৃত জমিও কাটছে ভুমিদস্যুরা । হুমকির মুখে পড়েছে নদী পাড়ের আশ পাশ বাড়ী, ফসলি জমিসহ বিদ্যুতের খুটি। উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ফুলহার, ঢাকের হাটি, গোয়াল খালী মৌজার ধলেশ্বরী নদীর অবৈধ ভাবে রেকডি সম্পত্তিসহ সরকারী খাসজমির বালু উত্তোলন করছে কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি আমির খশরু, বছিরউদ্দিন মেম্বারসহ এটি সংগবদ্ধ দল। এতে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়ছে। বালু তোলার প্রতিবাদ করলেই ভূমিদস্যু বছিরউদ্দিন মেম্বারের লোকজন হামলা করছে। হতাহতের ঘটনা হচ্ছে অহরহ। এমনকি সংবাদকর্মীরা ছবি উঠাতে গেলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী চড়াও হয়ে আসে তাদের উপর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জে। ধলেশ্বরী নদীর ফুলহার থেকে গোয়ালখালী পর্যন্ত ৪টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নিরব। এতে করে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ভূমিদস্যুরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ কাজ, তারা রয়েছেন নিরব ভূমিকায়।

ফুলহার গ্রামের মো.ইব্রাহীম মিয়া বলেন, বালু দস্যুরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বাধা দেয়ার সাহস করে না। এরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে গর্তের সৃষ্টি হওয়া নদীর তীরবর্তী ফুলহার,বাইওখোলা গ্রামসহ শত শত বিঘা আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। এদিকে ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা হলে ভরা বর্ষায় তাদের বসত ভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলন হবে।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা আগেও নিউজ করাইছি কিন্তু কিছু হয় না । তার কারন হলো এই নদীতে লক্ষ লক্ষ টাকা। যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা সেখানে ওসি সাহেবের কাছে গেলে উনি বলে ডিসি সাহেবের কাছে যান। এখন আমরা নিরীহ জনগণ। আমাদের অদূর ভবিষ্যতে একটা খুন খারাবি হয়ে যাবে। আমরা নিজেরা জীবন দিব কিন্তু বাপ দাদার জমি দিবনা। ব্রিটিশ আমল থেকে আমাদের ফসলি জমিগুলা নদীর গর্ভে বিলিন করে দিবে ওরা? শুধু বালুর জন্য তারা নদীর গর্ভে বিলিন করে দেয় আমাদের জমিগুলা । তারা কোনো মাটি নেয় না। তারা ভাল জায়গা গুলা খোদে মাটি গুলা ফাটায় দেয়।প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিটে একটি বলগেট বালু তোলে নেয়ে যায়।

তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। বর্ষার পানি আসলেই ভেঙ্গে পরে। এরপর পাড়ের কাছাকাছি আমাদের ও যাদের বাড়িঘর রয়েছে তাও ভেঙ্গে যাবে, তখন আমাদের কে দেখবে, আমরা কোথায় যাব। সরকারের কাছে আমাদের দাবী নদীর ড্রেজিং করা বন্ধ হোক। তাহলে পাড় ভাঙ্গা থেকে আমরাও রক্ষা পাব।

সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতি বছর যে ভাবে কেরানিগঞ্জের লোকেরা মাটি কাটে তা আপত্তি ও দুঃখ জনক। প্রশাসন শত চেষ্টার পরেও মাটি কাটা বন্ধ করতে পারেনি। যাদের জমির মাটি কাটে তারা যদি ঝুকি নেয় তবে বন্ধ হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, আমি এখনি পুলিশ পাঠাচ্ছি সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা নিতে।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার বলেন, কেরানীগঞ্জের কতিপয় কিছু ভূমিদস্যুরা অবৈধ ভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এর কারনে আমাদের উপজেলায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে ও নদী ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে। এবিষয়ে আগের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারাও অনেক বার অভিযান চালিয়েছেন । আমি নিজেও ব্যাক্তি গত ভাবে অভিযান চালিয়েছি কিন্তু আমরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি সেটা হলো স্পটে গিয়ে তাদের পাইনা। আমাদের আসার খবর শুনে তারা কেরানীগঞ্জের এরিয়ায় তাদের সীমানায় চলে যায়। তখন আর জুরিসডিকশনে না থাকার ফলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। তাই আমাদের সকল বাহিনি নিয়ে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বন্ধ করা হবে। অপর পাশের কেরানীগঞ্জ অংশ আছে সেখানেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তাদেরকেও বিষয়টি অবহিত করেছি। তারাও তাদের দিক থেকে কার্জকর্ম চালাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১