বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ September ২০১৯

শেখ হাসিনার কোনো বিত্তবৈভবের মোহ নেই -অর্থমন্ত্রী


বাঙালির স্বপ্নসারথি, উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিত্তবৈভবের প্রতি কোনো মোহ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর একটাই মোহ— দেশের পিছিয়ে পড়া সব মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা। একুশ শতকের অভিযাত্রায় দিনবদল ও জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার একজন কাণ্ডারি যিনি সেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ জন্মদিন, দিনটি তাই অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত দিন।

গতকাল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা পেরিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব রাজনীতিতে একজন প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয় রাষ্ট্রনায়ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক পুরস্কার দিয়েছে ইউনিসেফ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই পুরস্কার তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্বের সব শিশু, তরুণসহ বাংলাদেশের জনগণকে। পুরস্কার গ্রহণ করে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী বললেন, এই সম্মান আমার একার নয়। এই সম্মান বাংলাদেশের। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার কারণে বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে স্বকীয় বৈশিষ্টে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আজকে তিনি বিশ্বনেতা। যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো অ্যাবেকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রীকেও একইভাবে মূল্যায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশে না এলে আমরা হারিয়ে যেতাম, এই দেশের মানুষ হারিয়ে যেত।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ওপর গ্রেনেড হামলা হলো। ভিডিওচিত্রটি যদি দেখেন তাহলে বুঝবেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজহাতে প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করেছেন। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী যাতে দেশের মানুষকে আরো বেশি সেবা দিতে পারেন সেই জন্য ওনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন আল্লাহ নিজেই। আমরা সবাই মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব আল্লাহ যেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আরো দীর্ঘায়ু করেন। তিনি আরো বেশি বেশি দেশের মানুষকে সেবা দিতে পারেন।

দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, প্রত্যেক পরিবারে একটা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ২৬তম অর্থনীতির দেশ হবে। ২০৩০ সালে প্রত্যেক পরিবারে একজন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, দারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ক্ষেত্রে আমরা দৃঢ় আশাবাদী। এ সময় মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারব। এই অর্জনের ভিত তৈরি করে দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সেই ভিত থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ২১ ভাগ দারিদ্র্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আশা করা যায় ২০৩০ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানষ খুঁজে পাবেন না। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এখন অনেক দেশের সামনে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে অনুসরণ করার জন্য উপস্থাপন করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ এক নম্বর। ২০৪১ সালে ২০টা প্রথম শ্রেণির দেশের কাতারে থাকবে বাংলাদেশ। বিশ্বের ঋণ নেওয়ার দিক থেকেও আমরা যেকোনো দেশের তুলনায় পিছিয়ে।

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১