বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০২ December ২০১৯

রামগঞ্জে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৩রামগঞ্জে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৩

রামগঞ্জে হযরত শাহ মিরান মাদ্রাসার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ুন রশিদ ছবি : বাংলাদেশের খবর


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার হযরত শাহ মিরান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় আজ সোমবার সকালে চিহিৃত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও ৩ শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করে। মুহুর্তের মধ্যে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির পদত্যাগের দাবীতে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিষ্ঠানের মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে।

সুত্রে জানায়, উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউপির হযরত শাহ মিরান (রহ.) আলিম মাদ্রাসার আরবী প্রভাষকের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এ.টি.এম আবদুল্লাহ ভুইয়ার সাথে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান খানের বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান খান ১লা ডিসেম্বর রোববার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে অধ্যক্ষকে একই সাথে শোকজ নোটি ও সাময়িক বহিস্কার করে প্রভাষক নাজমুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন।

এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিষ্ঠানের মাঠে অবস্থান কর্মসুচি শুরু করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ দায়িত্ব পাওয়া অধ্যক্ষ নাজমুল আলম মুঠোফোনে সভাপতি নুরুজ্জামান খানকে জানায়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে সভাপতি নুরুজ্জামান তার ভাইপো পুটুন-মামুনের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসী গ্রুপকে হামলা করার নির্দেশ দেয়। এতে করে পুটুন-মামুনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লাঠি পেটা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। হামলায় আন্দোলরত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ উল্যাহ, সাকিল হোসেন গুরুতর আহত হয়।

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, রোববার প্রতিষ্ঠানে কোন সভা না করে সভাপতি পুর্বে তৈরী করায় রেজুলেশনে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে অধ্যক্ষের হাতে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারপত্র এবং প্রভাষক নাজমুল আলমের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কপি তুলে দেন।

অধ্যক্ষ এ.টি.এম আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির খাম-খেয়ালীপনা এবং বিধির বিরুদ্ধে কাজ না করায় পরিকল্পিত ভাবে আমাকে একই সময় শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার পত্র হাতে ধরিয়ে দেয়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, বিগত ১০ বছরে আর্থিক হিসেব না দেওয়া এবং আরবি প্রভাষক আব্দুস ছাত্তারের পদোন্নতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় অধ্যক্ষকে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। অধ্যক্ষকে বহিস্কার করায় তার অনুগত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করায় আমার ভাইপোরা গিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে বলে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ হুমায়ুন রশিদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারে নির্দেশে আমি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামুখী করাই। তবে সভাপতি কোন ক্ষমতার বলে একই সাথে অধ্যক্ষকে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার করছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১