বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৮ December ২০১৯

শীত-বৃষ্টিতে দরিদ্রের ভোগান্তি চরমে


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে যোগ হয়েছে সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। গত দুদিন আকাশ মেঘলা। আজও মেঘলা আকাশ এবং কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরো নেমে যাবে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেওয়া এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারী অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বৃহস্পতিবারের (২৬ ডিসেম্বরের) চেয়ে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কমেছে।

এদিন ওইসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে মৃদুতে উঠে এসেছে।

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবার যেটা ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল।

এদিকে ঢাকায় ও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে এসেছে। ফলে শীতের অনুভূতিও বেড়েছে।

এদিকে শুক্রবারও দেখা মেলেনি সূর্যের। তার ওপর বাতাস বইছে উত্তর, পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে। ফলে মোটা কাপড় ছাড়া দিনেও বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না।

গ্রামে রাতের বেলা শীত মানছে না লেপ-কম্বল মুড়িয়েও। ঠান্ডা বাতাসে দরজা, জানালার ফাঁক গলে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে ফেলেছে দেশবাসীকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। এক্ষেত্রে আগামী তিন দিন তাপমাত্রা কমবে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ১৪ মিলিমিটার।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহে সিরাজগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা রয়েছে পুরো সিরাজগঞ্জ। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে কর্মজীবী, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর দুর্ভোগই বেড়েই চলেছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি শীতবস্ত্রের সংকটে কষ্টে দিনাতিপাত করছে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্ররা।

বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে পুরো এলাকা। দুপুরে কুয়াশার সঙ্গে লুকোচুরি খেলা করে সূর্য।

তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ার কারণে মানুষের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছে গবাদিপশুও। এ পর্যন্ত জেলায় বিভিন্ন ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামারে বেশ কিছু মুরগি মারা গেছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে আলুক্ষেত ও বোরো ধানের বীজতলায় লেট ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। নিম্ন আয়ের মানুষের দেখা দিয়েছে গরম কাপরের সংকট।

এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

সলঙ্গার রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন, উজ্জ্বল ও ছানোয়ার হোসেন বলেন, শীতের কারণে গত দুদিন ধরে রিকশা নিয়ে কাজে বেরোতে পারিনি। টানাটানির সংসার, তাই বাধ্য হয়ে আজ দুপুরে কাজে বের হয়েছি। কিন্তু লোকজন খুব কম বেরিয়েছি; তার পরেও শুক্রবার। এ কারণে যাত্রীর দেখা মিলছে না।

সিরাজগঞ্জ শহরের সবজিবিক্রেতা মুজিবুর রহমান, মেহেদী হাসান ও আবদুল মালেক বলেন, ভোরে সবজি নিয়ে বাজারে এসেছি,  গ্রাহকের পরিমাণ খুবই কম। শীতের দাপটে মানুষ ঘর থেকেই বের হচ্ছে না। এ কারণে কেনাবেচাও অনেক কম হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সবজি নিয়ে বসে আছি।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, শীতে বিপর্যস্ত হতদরিদ্র মানুষগুলোর জন্য কম্বল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ৫৪ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো ৫০ হাজার কম্বলের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে ও ব্যক্তি উদ্যোগেও কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১