আপডেট : ২৮ December ২০১৯
সাংবাদিকরা এখন 'কর্মচারীতে' রুপান্তরিত হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম । তিনি বলেন, সংবাদপত্রকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু ইন্ডাষ্ট্রিওয়ালারা। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য মিডিয়া চালাচ্ছেন। সরকারকে চাপে রাখার জন্য ব্যবসার পাশাপাশি মিডিয়া হাউজ রাখা হয়েছে। মিডিয়াগুলো এখন আর মূল সাংবাদিকদের হাতে নেই। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম' আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাহবুবে আলম বলেন, শিল্প সাহিত্য বিকাশের জন্যই এই সংবাদপত্র। সাংবাদিকরা রুটি-রুজির জন্য কাজ করেন না। তারা প্রাণের তাগিদে সত্য উদঘাটনের জন্য কাজ করে থাকেন। বিবেকের তাড়নায় অনুসন্ধানী রিপোর্টের কাজ করলেও তা প্রকাশ হয় না। তিনি বলেন, বর্তমানে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলো এমন কিছু মালিকের হাতে চলে গেছে যাদের কৃষ্টি-কালচার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। তাদেরকে আমরা প্রায় আদালতে দেখি। তারা সাংবাদিকতা বোঝেন না। মিডিয়া হাউসগুলো করপোরেট অফিসে পরিণত হয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা চাকরি হারাচ্ছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাংবাদিকদের উচ্চতা ওঠার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। সমাজে অবদান রাখার মতো অনেক কাজ আছে। তিনি বলেন, আইনজীবী আর সাংবাদিকের কাজ প্রায় একই ধরনের। সাংবাদিকদের মতো আইনজীবীদেরও অনেক বিষয়ে জানতে হয়। আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন আছে। তারা সংগঠনগুলো থেকে বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। সাংবাদিকরাও এ রকম সংগঠন করতে পারেন। এতে তারাও উপকৃত হবেন। সাংবাদিকদের জন্য ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অল্প অল্প টাকা জমিয়ে রাখলে অসুস্থ হলে বা মৃত্যুবরণ করলে একসঙ্গে অনেক টাকা পাওয়া যেতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর শ্রমিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড নির্ধারণ করা হয়। সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড চালু হয়েছে। কিন্তু এর সুফল এখনও পাননি সাংবাদিকরা। সাংবাদিক ও মালিকদের একান্ত সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হলে সকল সংবাদকর্মী এর সুফল পাবেন। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের সুফল এবং কুফল বর্ণনা করে তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে কোনো এলাকার একজন থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানে পিয়ন থেকে শুরু করে সব পদে ওই এলাকার মানুষ চাকরি পেয়ে যায়। এতে অন্য জেলার মানুষ বঞ্চিত হয়। এটাকে আমি কুফল হিসেবে দেখি। আর সুফলের কথা বলতে গেলে এই সংগঠনের মাধ্যমে একটি এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উঠে আসে। মাহবুবে আলম বলেন, বৃহত্তর ঢাকার কথা বলতে গেলে এখানকার অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এসব ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। সংগঠনের সভাপতি কার্তিক চ্যাটার্জীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাংবাদিক সৈয়দ মেজবাহউদ্দিন, বরুণ ভৌমিক নয়ন, আক্তার হোসেন, স্বপন দাশ গুপ্ত, কবি হালিম আজাদ, আতাউর রহমান, তরুণ উদ্যোক্তা শেখ লেনিন প্রমুখ। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চৌধুরী।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১