বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ December ২০১৯

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নজির বিহীন চিকিৎসক সংকট : হাসপাতাল নয় যেন ময়লার ভাগাড়


বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জারিত। দীর্ঘদিন যাবৎ নজির বিহীন চিকিৎসক ও কর্মচারীর পদ শূন্যতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রোগীদের ভীড় থাকলেও চিকিৎসা সেবা দেয়ার লোক ও যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। নিরুপায় হয়ে রোগীদের পার্শ্ববর্তী জেলা গোপালগঞ্জ ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অসহায়, দরিদ্র-পিড়ীত, অসুস্থ মানুষদের সীমাহীন দূর্ভোগের পাশাপাশি অনাকাঙ্খিত মৃত্যু ও ভোগান্তির হার ক্রমেয় বেড়ে চলছে। উপজেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রের এই দুরাবস্থায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে। হাসপাতালের চারদিক ও ড্রেনের দিকে তাকালে মনে হবে এটি কোন হাসপাতাল নয় যেন ময়লার ভাগাড়।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানাগেছে, মোল্লাহাটের ৭টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলাটি নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির উপর নির্ভরশীল। ১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু করা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১৯৮৬ সালে ৩১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে ২০১৭ সালে এটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। কিন্তু পরিধি বাড়লেও এখানে নতুন কোন জনবল নিয়োগ দেয়া ও আসবাবপত্র পাঠানো হয়নি। এতে প্রতিষ্ঠানটির আগের জনবল দিয়ে চালনোর কথা থাকলেও চিকিৎসক ও কর্মচারীর পদ শূন্যতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। ৩১ সয্যার জন্য ডাক্তারের ১৬টি পদেও মধ্যে রয়েছেন মাত্র ২ জন। এতে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।

তাছাড়া হাসপাতালের ভিতরে বিভিন্ন স্থান যেন এক একটি ডাস্টবিনে পরিনত হয়েছে। চিকিৎসকদের বসবাসের জন্য নির্মিত আবাসস্থল অনেকগুলোই পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ডাক্তার এবং নাসং ছাড়াও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোতেও রয়েছে নজির বিহীন শুন্যতা। নবনির্মত ১৯ শয্যার ভবনে রয়েছে অপরেশন থিয়েটার, আধুনিক কেবিন ও বিষেশজ্ঞের চেম্বার। কিন্তু ভবনটির বিপরিতে বরাদ্ধ দেয়া হয়নি কোন আসবাবপত্র ও জনবল। ফলে দির্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটি নস্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শিশু জয়ন্তিকে (০৪) নিয়ে তার চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন মা শেফালী রানী সাহা। তিনি বলেন, এই কোন শিশু চিকিৎসক নেই। ফলে বাচ্চাকে নিয়ে তিনি চিন্তায় পড়েছে। তাকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জে যেতে হবে বাচ্চার চিকিৎসার জন্য। যা একদিকে ব্যয়বহুল অন্য দিয়ে নিয়ে যেতে অনেক সময়ও প্রয়োজন।

চিকিৎসা নিতে আসা মহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির ভিতরে আসলে মনে হবে এটা কোন হাসপাতাল নয়। চারিদিকে শুধু ময়লা আর আবর্জনা। যেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কোন লোক নেই। তাছাড়া এখানে কোন পরীক্ষা- নিরীক্ষারও ব্যবস্থা নেই। ফলে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়। যা মনসম্মত নয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে আরো জানাগেছে, এখানে ৩টি এক্সরে মেশিনের অপারের না থাকায় ৯ বছর ধরে নষ্ট রয়েছে। আর টেকনিশিয়ান না থাকায় বন্ধ রয়েছে প্যাথলজি বিভাগ।

চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের কথা স্বীকার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকটেই মূলত স্বাস্থ্যসেবা ব্যহত হচ্ছে। ৫০ শয্যার বিপরিতে এখনও জনবল নিয়োগ হয়নি। ৩১ শয্যার জনবলেও রয়েছে ব্যপক সংকট। আর চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর অভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১