বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৬ January ২০২০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

কম্বোডিয়ার সমর্থন চায় ঢাকা

সংসদ সদস্যদের একটি দল দেশটি সফর করছে


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কম্বোডিয়ার সমর্থন চায় ঢাকা। দেশটির সমর্থন পেতে ঢাকা থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল দেশটি সফরে রয়েছে। দলটি বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবে। আসিয়ানভুক্ত দেশ কম্বোডিয়ার কূটনৈতিক সহায়তা চাওয়া হবে। প্রতিনিধি দলটি দেশটির সরকার, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করে আগামী বুধবার দেশে ফিরবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সফরে রয়েছেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দ প্রিন্স, মো. আবদুল মজিদ খান, নাহিম রাজ্জাক, নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) এবং সভাপতির একান্ত সচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান।

২০১৯ সাল শেষ হয়েছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে ব্যর্থতা আর আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২০ সালে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে থাকবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। তবে রোহিঙ্গাদের শরণার্থীজীবন দীর্ঘ হওয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়া, আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচারের মুখোমুখি হওয়া আর মিয়ানমারের প্রতি জাতিসংঘের নিন্দা। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিদায়ী বছরে প্রায়ই আলোচনায় এসেছে। কয়েক দফা চেষ্টা চললেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে যায়। তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগও সফল করা যায়নি বেসরকারি সংস্থাগুলোর অনাগ্রহে। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘতর হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ, ভারত এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বন্ধুপ্রতিম চীনকে এক্ষেত্রে উদ্যোগী করতে সরকারকে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছিল প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। শিবিরে জন্ম নিচ্ছে রোহিঙ্গা শিশু।

আশ্রয় নিয়ে এখন দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ গত সোমবার কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। রোহিঙ্গারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি তারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে দেশের বাইরে যাচ্ছে বলে তথ্য বেরিয়ে আসছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করে আসছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে। তবে সেখানে গণহারে হত্যা-ধর্ষণ-জ্বালাও-পোড়াওয়ের অভিযোগ মিয়ানমার সব সময় অস্বীকার করে আসছে। মিয়ানমার বলছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু তাদের কথায় রোহিঙ্গারা আস্থা রাখতে না পারায় গত আগস্টে প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় দফা চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। অবশ্য আন্তর্জাতিক আদালতে নিজেদের পক্ষেই সাফাই করেছে দেশটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত বলব না, বিষয়টি প্রত্যাবাসন। কিন্তু সেটি কখন হবে তা বলা কঠিন। এটি সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে নতুন বছরে। আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানো।

কম্বোডিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। বাংলাদেশের অনেক বিনিয়োগকারী দেশটিতে বিনিয়োগ করেছে। শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অনেক সদস্য সেখানে কাজ করেছে। সফর সম্পর্কে জানতে ফারুক খানকে কয়েক দফা ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১