আপডেট : ২৯ January ২০২০
নেত্রকোণার পূর্বধলা বাজারের লাইব্রেরি ও স্টেশনারিগুলোতে অনুশীলনীমূলক, গাইড (গ্রামার ও ব্যাকরণ) বই কিনতে গেলে প্যাকেজ বই কেনা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন শ্রেণির বাঁধাই করা প্যাকেজ বই বাধ্যতামূলক বিক্রি করা হচ্ছে এবং প্যাকেজ ছাড়া কোনো বই লাইব্রেরিতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্যাকেজ ছাড়া বই কিনতে না পেরে এবং গায়ের দামে বই কিনতে হবে এমন লেখা দেখে বই ক্রেতাদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বধলা বাজারের চারু লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারি, প্রতিভা লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারি, ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারি, একুশে লাইব্রেরি, অতুল লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারী, মিনার লাইব্রেরি এন্ড স্টেশনারি ঘুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্যাকেজ বই বিক্রি করা হচ্ছে। স্বার্থান্বেষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালিকেরা তাদের নিজেদের পছন্দসই প্রকাশনীর অনুশীলন বইগুলো ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাইড বইয়ের গুণগতমানকে উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কথামতো ছাত্রছাত্রীরা বাধ্য হয়ে বই কিনছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রছাত্রী জানান, আমাদের স্কুলে স্যারদের কথা মতো বই কিনে পড়ছে হচ্ছে। কেউ কেউ অন্য কোম্পানির বই কিনে নিলেও আবার নতুন করে বই কিনতে হচ্ছে। লাইব্রেরি মালিকেরা জানান, কোনো কোম্পানি প্যাকেজ ছাড়া বই বিক্রয় করা হয় না এবং প্যাকেজ ছাড়া কোন বই বিক্রি করলে তা কোম্পানী ফেরতও নেয় না। এসব কারণে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বা খুচরা বই বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী একাধিক প্রকাশনীর প্যাকেজ বই বিক্রি করতে হয়। পাঞ্জেরি প্রকাশনীর মার্কেটিং অফিসার মো. শরীফ আহমেদ জানান, দেশের সব প্রকাশনী কোম্পানির প্যাকেজ ছাড়া কোনো বই বিক্রি করে না। আমাদের প্রকাশনীর ক্ষেত্রেও কোনো প্যাকেজ ছাড়া বই বিক্রি করা যাচ্ছে না। পুথি নিলয় প্রকাশনীর মার্কেটিং অফিসার মো. লুৎফর রহমান জানান, ক্রেতাকে প্যাকেজ বই একসাথে কিনতে হবে। আলাদা আলাদা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামার বই পৃথক পৃথক কিনতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পূর্বধলা উপজেলা কমিটির সভাপতি সভাপতি বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, কোন প্রকাশনীর খুচরা বই কখনো ফেরত নেয় না। নিয়ম নীতির মধ্যে থেকে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। আমাদের কিছুই করার থাকেনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম বলেন, পুস্তক বিক্রয়ে প্রকাশক ও নিয়ন্ত্রণ আইনে কোর্টে মামলা থাকায় সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাচ্ছে না। যদি উপজেলা পর্যায়ে কোন সিন্ডিকেট থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১