আপডেট : ৩১ January ২০২০
গুচ্ছ ইস্যুকে টার্গেট করে ঘরে-বাইরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোটযোদ্ধারা। প্রস্তুতিটা প্রতিরোধের। দফায় দফায় অভ্যন্তরীণ সভা করছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-বিএনপি। অতীত নির্দেশনা মেনে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রচার লড়াইয়ে ছিলেন মহানগরীর নেতা-কর্মীরা। গত রাতের নিজ নিজ দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দুই সিটির প্রতিটি ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানার নেতা-কর্মীদের। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নির্দেশনা পালনে আজ শুক্রবার প্রস্তুতি নেবেন বলে জানিয়েছেন বড় দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক নেতা। এদিকে শান্তিরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে দুুদিন আগেই। ভোটচিত্র পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সংগঠন-সংস্থার প্রস্তুতিও কম নয়। সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলেও তাদের তৎপরতা জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও বেশি বলে বাহ্যিক পরিবেশে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানামুখী শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে নির্বাচন কমিশন। শঙ্কিত প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ প্রার্থীরাও। ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের চিরাচরিত ঘটনার পুনরাবৃত্তির আভাস-ইঙ্গিত উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। বরং রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ ও সিনিয়র নেতাদের নানামুখী বক্তব্য-মন্তব্যকে বিশেষ নির্দেশনা হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। এ কারণে প্রচারণার গত সপ্তাহে ঘটেছে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মেয়র প্রার্থীর ওপর, প্রচারণা র্যালিতে হামলা, সংষর্ঘ, ফাঁকা গুলি, প্রচারকেন্দ্র ভাঙচুর, একাধিক কাউন্সিলরকে আহতসহ তাদের বাসাবাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে স্থানীয় থানা প্রশাসনে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। তবে এসবকে নির্বাচন উৎসবের মধ্যে রেখেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রমুখী করতে যারপরনাই চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, শাসক দল আওয়ামী লীগ, বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত রেখেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ইতোমধ্যে সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে হুঁশিয়ারিমূলক কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় তার বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পূর্বাভাস পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতি দলগুলোর শীর্ষ ও সিনিয়র নেতারা গত দুদিনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে ভোটের দিনের করণীয় সম্পর্কে প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ করতে আওয়ামী লীগ ‘সাংগঠনিকভাবে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে তাদের নেতা-কর্মীরা সতর্ক পাহারা দেবেন, যাতে জনগণের ভোট রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকুক সেটা চায় তার দল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ক্রমাগত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলটির অন্য মন্ত্রী-নেতাদের যে উসকানিমূলক বক্তব্য, সেই বক্তব্যের পরে নির্বাচনের পরিবেশ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচনের দিকেই চলে গেছে। এর আগে ঢাকাবাসীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের কাছে উদাত্ত আহ্বান, আমরা-আপনারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অধিকার অর্জন করেছি, তা রক্ষার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন, নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করুন। আসুন আমরা সব অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন। ভোটের পরিবেশ হবে উৎসবমুখর। আমরা তাই আশা করছি। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের নেওয়া আছে বলে জানান। এদিকে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের মেয়ররা নানামুখী হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের সবাই প্রচারকালে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার। গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের সুরক্ষা দিতে নিজ নিজ দলের তরফ থেকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে মাঠে থাকবে। বড় দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা গত রাতে তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছানো, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা যাতে হয়রানি না হয়, নির্বিঘ্নে যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা মাঠে থাকব। বিএনপির ওই নেতাদের মন্তব্য-এবার থাকব প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে। আর ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মন্তব্য-তারাও থাকবেন বিজয়ের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে। আজ রাতে নিজ নিজ মহল্লায় বৈঠক হবে বলে জানান ওই নেতারা।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১