আপডেট : ০৪ March ২০২০
দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিত্যদিন দিনে দুপুরে ঘটছে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা। আগে ক্যাম্পাসের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত। যেখানে যাওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখন অনুষদ ভবন ও শহীদ মিনারের আশপাশে শুরু হয়েছে এটি। গত কয়েকদিনে ৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। অনিরাপত্তায় ভোগছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিনা অনুমতিতে ভ্রমণ করা নিষিদ্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। জানা যায়, সর্বশেষ সোমবার শহীদ মিনারের সামনে থেকে দিনদুপুরে সাখাওয়াত হোসেন স্বাধীন নামে ফারসি বিভাগের শিক্ষার্থীর মোবাইল ছিনিয়ে নেই ৪ অজ্ঞাত যুবক। এসময় তাকে মারধরও করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পিছনে টেলিটক পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হন ১৬ শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি স্মার্ট ফোন, একটি স্বর্ণের চেন ও নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২ জানুয়ারি একই জায়গায় ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন ৪ শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া গতবছর ডিসেম্বরে জীববিজ্ঞান অনুষদের নিচতলা থেকে এক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি কলা ভবনের শেষ ফটকের সামনে নাট্যকলা বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শরিফুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও পুলিশি অভিযান না চালিয়ে তাতে অনুমতি ছাড়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারীদের সাথে নিরাপত্তা দপ্তরের লোকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন অনেকে। শিক্ষার্থীরা যখন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে যায় তখন পাহাড়ি ছিনতাইকারীরা কিভাবে খোঁজ পায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব নিয়ে কেউ না কেউ তথ্য দিয়ে থাকে। এর প্রেক্ষিতেই হরহামেশা এমন ঘটনা ঘটে থাকে। আর এরা সবাই একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এছাড়া বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা চলাচল করে। গত কয়েকবছর যাবত দেখে আসছি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামান্যতম নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ফলে এখন দিনদুপুরেও ছিনতাই হচ্ছে।’ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক আমির সোহেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা জায়গায় প্রকাশ্যে বহিরাগতরা আমাদের এক কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এ রকম ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। দ্রুত ক্যাম্পাসে এসব বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসাস বলেন, ‘ক্যাম্পাসে চুরি ছিনতাই রোধে শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা জরুরী। আমরা নিয়মিত চেষ্টা করছি এমন ঘটনা যাতে না ঘটে। সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। চোর বা ছিনতাইকারীদের কোন তথ্য কারো কাছে থাকলে আমাদের গোপনে জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১