আপডেট : ০৮ March ২০২০
নারীরা আজ ঘরে বসে নেই, নারীরা আজ ছুটে চলছে পুরো বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশে নারীদের সকল কর্ম ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও সামাজিক নানা দায়বদ্ধতা ও ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে গ্রামীণ জনপদ গুলোতে এখনো নারীদের পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করে একটি মহল। তবে এই প্রতিবন্ধকতা জয় করে নারীরা দেখাচ্ছে তাদের কাজ করার মানসিকতা। সারাদেশেই আজ দেখা মেলে নারীদের নানারকম সাফল্যের চিত্র। এমন একটি সাফল্যময় ও নারী বান্ধব উপজেলা নেত্রকোনার দুর্গাপুর। এই উপজেলার ইউএনও (ফারজানা খানম), উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (জান্নাতুন ফেরদৌস আরা ঝুমা) ও সহকারী পুলিশ সুপারের (মাহামুদা শারমীন নেলী) মত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদেই দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিন নারী। মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের ঘেষা ও নীল জলরাশি নদীর তীরবর্তী উপজেলা দুর্গাপুর। ২৯৩ বর্গ কিলোমিটার এই উপজেলা পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য। তাই প্রশাসনিকভাবে এখানে রয়েছে দায়িত্ব পালনের বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে বিগত সময়গুলোতে যেখানে হিমশিম খেয়েছে পুরুষরা ঠিক সেই জায়গায় ৩ নারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আইন শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। এই উপজেলার গ্রামীণ এলাকার পিছিয়ে পড়া নারীরা আজ নারী অফিসার পেয়ে মন খুলে বলছেন তাদের নানা রকম সমস্যা। এছাড়াও বাল্যবিবাহ প্রবণ এই উপজেলায় তিন নারীর প্রচেষ্টায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বাল্যবিবাহ। আর শিক্ষার্থীরা নিরাপদে যেতে পারছে বিদ্যালয় গুলোতে। সুসং মহাবিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা প্রতিটা শিক্ষার্থীই স্বপ্ন দেখি বড় হয়ে কিছু করার। কিন্তু অনেক সময় সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে তা করা হয়ে ওঠে না । তবে আমাদের এই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নারীরা যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা আমাদের অনেকাংশেই অনুপ্রাণিত করে । তাছাড়া আমরা আমাদের সমস্যা গুলো খুব সহজেই তাদের কাছে উপস্থাপন করতে পারি। আইনজীবী মানেশ সাহা জানায়, কর্মস্থলে একজন পুরুষের থেকে নারীদের সততা অনেক বেশি। এছাড়াও একজন নারী গুরুত্বের সাথে সকল কাজই পালন করে থাকে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নারী অফিসার থাকায় গ্রামের সহজ-সরল নারীরাও তাদের সকল সমস্যা সহজে তাদের কাছে তুলে ধরতে পারে। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে একজন করে নারী অফিসার থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম জানান, আমরা তিনজনে মিলে এই দুর্গাপুরকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি । পাশাপাশি আমরা উপজেলা পরিষদের সকল কাজ খুব গুরুত্বের সাথে পালন করে আসছি। এই নারী দিবসে নতুন প্রজন্মের নারীদের শুধু একটা কথাই বলতে চাই, নিজেকে কখনো নারী হিসেবে না দেখে একজন মানুষ হিসেবে দেখো। দুর্গাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমীন নেলী জানান, আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ আলাদা করে ভাবার কোন জায়গা নেই। এক্ষেত্রে আমাদের যে বিষয়টি প্রথমে মাথায় নিতে হয় সেটা হচ্ছে কুইক রেসপন্স। আমরা কখনোই লিঙ্গ ভেদাভেদের পক্ষে না। মেয়েরা একটু আইনি সেবা কম পাবে বা পুরুষরা একটু বেশি পাবে এরকম চিন্তা আমরা করি না। আমরা সর্বদাই চেষ্টা করছি নারী-পুরুষের সমান সেবা দেওয়ার। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জান্নাতুন ফেরদৌস আরা ঝুমা জানান, দুর্গাপুরে গারো, হাজং সকলেই একসাথে মিলে সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ। এখনকার মেয়েরা কিন্তু ছেলেদের থেকে পিছিয়ে নেই। এখন মেয়েরা ছেলেদের পাশাপাশি সকল কাজই করে থাকে। সেটা শিক্ষকতা হোক, চাকরি হোক বা প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব। আমি নিজেকে কখনো নারী মনে করি না
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১