বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৯ March ২০২০

নিজের মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করলেন মা


নিজের মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করেছেন মাদকাসক্ত এক পাষণ্ড মা।  এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর জন্য মরদেহ ঘরে রেখে গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। গতকাল রোববার দুপুরে মাগুরা শহরের কলেজপাড়া হাজী রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক মা সুফিয়া বেগমকে (৩৮) আটক করে।

আটকের পর সুফিয়া বেগম পুলিশের কাছে নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান, আমি আমার মেয়েকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছি। আমার শরীর ভালো না, যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। আমি মারা যাবার পর এই সন্তান যেন কোনো পুরুষের লালসার শিকার না হয় সে জন্য আমি ওকে হত্যা করেছি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) সাইদুর রহমান জানান, সুফিয়া বেগম নিজে তার মেয়ে মাহিমাকে গলাটিপে হত্যা করেন। এটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর জন্য মরদেহ ঘরে রেখে গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন ধরিয়ে দেন সুফিয়া। পরে প্রতিবেশীরা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে শিশুটি আগুনে দগ্ধ না হওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হলে সুফিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন সুফিয়া নিজেই নিজ সন্তানকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া বেগম জানান, তিনি নিজে ক্যানসারের রোগী। এ কারণে দুই মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। যেহেতু তিনি নিজে বাঁচবেন না, সেজন্য সন্তানকে দুনিয়া থেকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি এ কাজ করেন।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে ওসি আরো বলেন, সুফিয়া নিজে মাদকসেবী। প্রায় ১৫ বছর আগে তার প্রথম স্বামী তালেব মোল্যা তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে অশান্তিতে ভোগেন। প্রথম স্বামী আবু তালেবের ঘরে তার আরো দুটি মেয়ে রয়েছে। এরপর লক্ষ্মী কান্দর গ্রামের মনু মিয়াকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। তিন বছর ধরে তিনি কলেজপাড়ার সাহাদৎ হোসেনের বাড়ির তিন তলায় দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কয়েক মাস আগে হঠাৎ তার দ্বিতীয় স্বামী মনু মিয়া তাকে ছেড়ে চলে যান। এ নিয়ে মনু মিয়ার সঙ্গে সুফিয়া খাতুনের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জেরে শিশুকন্যা মাহীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।  এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, দ্বিতীয় স্বামী মনু মিয়ার সাথেও সুফিয়ার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মাহি দ্বিতীয় পক্ষের একমাত্র কন্যা। মায়ের মানসিক সমস্যা ছিল। কয়েকবার তাকে বলেছি ডাক্তার দেখানোর জন্য কিন্তু তিনি রাজি হয়নি। মাহি জন্মের পর থেকেই আমাদের কাছে থেকে মানুষ। সকালে ওকে আমরা নিয়ে যেতাম আর রাতে দিয়ে যেতাম। ওকে এভাবে মেরে ফেলবে আমরা কখনো বুঝতে পারিনি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১