বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৯ March ২০২০

ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ সরকারের

৩০ হাজার জেলে পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে


দেশে বিদ্যমান ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৩১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ নামক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। শিগগির প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে  দেশের জলসীমানার ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সারা দেশে আগামী ৪ থেকে ১০ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন করবে সরকার। এজন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ সম্পদের  উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ প্রকল্পের আওতায় জাটকা আহরণকারী ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মাঝারি সাইজের ইলিশ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশে ইলিশের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় ও দেশের মানুষের জন্য আমিষ সরবরাহে ইলিশ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে। জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশ এবং দেশের মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ। আর  প্রায় ৫ লাখ মানুষ সরাসরি এবং ইলিশ আহরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ জড়িত। আর মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ দেশের নদ-নদী থেকেই আহরণ করা হয়।

এদিকে দেশের ইলিশ সম্পদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় হুমকি নির্বিচারে ক্ষতিকর জাল ও সরঞ্জাম দিয়ে জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ। ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে- জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।  এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নদী, মাছ বাজার, মাছঘাট, হাট, আড়তগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পে জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে এবং জেলেদের অবৈধ মাছ ধরা বন্ধে বিভিন্ন ধরনের কম্বিং অপারেশন, ক্র্যাশ  প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ঝাটকা নিধন বন্ধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ-র্যাব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের উপকূলীয় এলাকার ৩০ হাজার জেলে পরিবার স্বাবলম্বী হবে এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি মাছ বিক্রি, আড়তদারসহ সরাসরি মাছ ধরে না কিন্তু ইলিশের সঙ্গে জড়িত এরকম প্রায় ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান ড. শাহজাহান আলী খন্দকার বলেন, দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, গতকাল রোববার এ প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ইলিশ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।   এ ছাড়া এ  বিষয়ে কিছু সুপারিশ উত্থাপন করা হয়েছে এবং এসব সুপারিশসংবলিত প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রোববার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২০’ উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং টাস্কফোর্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জাটকা নিধনের সঙ্গে জড়িতদের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় ভালো কাজের অনুপ্রেরণা ও সাহস দেন। দেশ, জাতি ও আইনের শাসনের স্বার্থে জাটকা নিধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ও নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের প্রতিহত করা হবে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ইলিশ আহরণ বন্ধকালীন জেলেদের জন্য অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে রাজধানীতে এবং দেশের ৬৪ জেলায় একই সময়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় র্যালি শেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মৎস্য অধিদপ্তরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।  আর  কেন্দ্রীয়  কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাটকা সংরক্ষণবিষয়ক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন, বেতার-টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন, ইলিশবিষয়ক কর্মশালা, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন মৎস্য আড়ত, বাজার ও অবতরণ  কেন্দ্রে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ইলিশ অধ্যুষিত পাঁচটি জেলা- ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অংশীজনদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নৌ, সড়ক ও রিকশা র‍্যালি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, হাট-বাজারে অভিযান পরিচালনা, শিশু-কিশোরদের রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জেলেদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, জেলেপল্লীতে জাটকা সংরক্ষণবিষয়ক সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ, পথনাটক, আঞ্চলিক সংগীত এবং জাটকা রক্ষায় সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনাসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১