বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১১ April ২০২০

দৌলতপুরে অনাস্থা আর ভীতির ‘প্রতীক’ বোয়ালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান

দৌলতপুর বেয়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়াম্যান প্রতিনিধির পাঠানো ছবি


অনিয়ম, অনাস্থা আর ভীতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানান অভিযোগ উঠলেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে যান অনায়াসেই। আর জনগণের প্রতিনিধির যেখানে রক্ষক হওয়ার কথা সেখানে তিনিই যদি ভক্ষক হয়ে ওঠেন তাহলে মানুষের তো আর দুঃখের সীমা নেই!

অভিযোগ অনেক। কখনো চাল ছিনতাই, কখনো বা ছবির জন্য মারধর, গালাগালি। সবই করেন মহিউদ্দিন বিশ্বাস। এছাড়া অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

করোনাভাইরাস দুর্যোগে বাংলাদেশে লকডাউনের মধ্যে কর্মহীন মানুষ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে দুনীতি, অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ অনেক। জেলার পর্যায়ে অভিযোগের কমতি নেই। আর দৌলতপুর উপজেলার অনিয়মের অন্যতম ‘সমন্বয়ক’ মহিউদ্দিন বিশ্বাস।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। আমি উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন। তাকে শোকজ করা বা যে ব্যবস্থা নেয়ার তা নেয়া হবে। আমি বিষয়টি আমাদের জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত হবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টা শুনলাম, দেখলাম। আমাদের নলেজের এসেছে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কুষ্টিয়া বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এ চেয়ারম্যান সরকারি ত্রাণ দেয়ার সময় দুস্থ অসহায় বয়স্ক মহিলা ও পুরুষদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করছেন। তিনি ত্রাণ দেয়ার সময় ছবি তোলার জন্য লোকদের বার বার ক্যামেরার দিকে তাকাতে বলছেন। কিন্তু অনেক ক্যামেরার দিকে না তাকানোয় তিনি গায়ে ধাক্কা দিয়ে লোকজনকে অশ্লীল ভাষায় বাজে মন্তব্য করছেন।

এ বিষয়ে একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘চেয়ারম্যান অনেক সময় সাংবাদিকদের ফোন ধরেন না। তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতেও চান না। তার বিরুদ্ধে তো আর মানুষের অভিযোগের শেষ নাই। মহামারির সময় কতো ধরনের লোক কতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি যদি এই ত্রাণের চালের পয়সা মাইরা খাওয়ার সুযোগে থাকে, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়। আমি আগেও পাঁচ বছর মেম্বার ছিলাম, এখনও আছি। কেউ বলতে পারবে না, কোনো খারাপ কাজ করছি। চেয়ারম্যানের কথা আর বলার কিছু নাই। এইসব চেয়ারম্যান চলে নাকি। যারা জনগণের সুখ-দুঃখ না বোঝে। এসব চলে নাকি।’

এদিকে মুঠোফোনে মহিউদ্দিন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো চেয়ারম্যান না। আপনি ভুল করছেন।’

এর আগে মহিউদ্দিন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তা ঠিক না। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

এদিকে ২০১৭ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পরিষদের নির্বাচিত ১২ সদস্যের (মেম্বার) সবাই অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠান পরিষদের সদস্যরা। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককেও অনুলিপি দেয়া হয়েছিলো।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছিলো, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস একক সিদ্ধান্তে পরিষদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সদস্যদের অভিযোগ ছিলো, উপজেলা পরিষদ থেকে ভূমি হস্তান্তর কর বাবদ তিন কিস্তিতে চার লাখ তিন হাজার টাকা বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে বরাদ্দ হয়। মোটা অঙ্কের এই টাকা কোন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বয়স্কভাতার মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

ওই টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান নিজে ব্যবহারের জন্য একটি প্রাইভেটকার কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন মেম্বাররা।

ইউনিয়নে দু’জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে মহিউদ্দিনের নামে। এছাড়া আরো কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকরি দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১