আপডেট : ১২ April ২০২০
ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর হয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৬১টি ট্রাক বোঝাই ভারতীয় পাটবীজ নিয়ে আসার নয়দিনেও চালকদের ফেরত নেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি পাটবীজ আমদানিকারক ও স্থানীয় সিএন্ডএফ এ্যাজেন্ট ব্যবসায়ীরা ট্রাক চালকদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। জানাগেছে, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা বন্দরে ১৪ দিন আটকে থাকার পর উভয় দেশের সরকারি নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গত ৪ এপ্রিল বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাটবীজগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পাটবীজগুলো খালাস করার পর থেকে ট্রাক চালকদেরকে নিজ দেশে ফেরত নেয়নি ভারত। ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাজেন্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকার বলেন, ‘করোনাভাইরাস আতঙ্ক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় গাড়ী ও চালকদের প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’ বুড়িমারী স্থলবন্দর সূত্র জানায়, ট্রাক থেকে পাটবীজ খালাসের পর গাড়ী নিয়ে চালকেরা ভারতে ফেরত যেতে চাইলে বুড়িমারী জিরোপয়েন্টে আটকে দেয় বিএসএফসহ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এরপর দফায় দফায় দুই দেশের সিএন্ডএফ অ্যাজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা আলোচনা করেও বিষয়টির সুরহা করতে পারেনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি- রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ওই সময় উভয় দেশের সম্মতিতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর থেকে ৬১ ট্রাক পাটবীজ দেশে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। ঢাকার সিদ্দিক বাজার এলাকার মেসার্স রফিক এন্টারপ্রাইজ পাটবীজ আমদানি কারক আলমগীর মিয়া বলেন, ‘পাটবীজ রফতানি করে ডলার আয় করেছে ভারত সরকার। এখন গাড়ী ও চালকদের কেন ফেরত নিতে দেরি করছে। তিনি উভয় দেশের দুতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে দেখার অনুরোধ করেন।’ বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস্ সহকারী কমিশনার (এসি) সোমেন কুমার চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে যে কোনো মুহুর্তে ট্রাক চালক ও গাড়ীগুলো ফেরত পাঠানো হবে।’ বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ডিডি) মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থলবন্দরের ইয়ার্ডের ভেতরেই ট্রাক ও চালকদের রাখা হয়েছে। সিএন্ডএফ অ্যাজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা খাদ্যদ্রব্য কিনে দিচ্ছেন। চালকরা নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সরেজমিনে এসেছিলেন এবং সমস্যা সমাধানে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছেন।’ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘চালকদেরকে ফেরত না নেয়ার বিষয়টি ভারতীয় দূতাবাস ও কোচবিহার জেলা শাসককে (ডিএম) জানানো হয়েছে। তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে অবহিত করেছেন। তবে কোনো নির্দেশনা এখনও আসেনি।’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১