বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২১ April ২০২০

এশিয়া, ইউরোপের কয়েক দেশে শিথিল হলো লকডাউন


করোনার ভয়াল থাবায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পৃথিবী। মৃত্যুর মিছল যেন থামছে ই না। এক স্থানে থামছে তো অন্য স্থানে শুরু হচ্ছে। সেই শোকাহত বিশ্বের কাছে একটু আশার দিক হচ্ছে গত দুই সপ্তাহে সর্বনিম্ন মৃত্যু। এছাড়াও আরেকটি আশার দিক হচ্ছে প্রতিনিয়ত বিশ্বের উরোপ এশিয়ার কয়েকটি দেশে শিথিল করা হচ্ছে লকডাউন ।

ইতিমধ্যে এশিয়া থেকে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া আর ইউরোপ থেকে জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ও পোল্যান্ড লকডাউন শিথিল করেছে। এসব দেশের জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে দোকানপাট-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। কাজে ফিরতে শুরু করেছে নাগরিকরা।

জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করায় শপিং মল, পার্ক, গলফ কোর্স ও রেস্টুরেন্টগুলোতে আবার জড়ো হতে শুরু করেছে মানুষ। এদিকে অর্থনীতি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেও লকডাউন শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

ভারতে লকডাউন শিথিল-ভারতে করোনা মোকাবেলায় দ্বিতীয় দফায় ১৯ দিনের লকডাউন শুরু হলেও আজ (মঙ্গলবার) থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল হচ্ছে বিধিনিষেধ। সোমবার মধ্যরাত থেকেই কৃষি, জরুরি উৎপাদন, পরিবহনসহ ২১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধে কিছুটা নমনীয় হচ্ছে সরকার।

একই সঙ্গে, বেশ কিছু সরকারি দফতরও সচল করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৬৫৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫৫৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৮৫৪ জন।

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় জনগণকে কাজে ফেরার অনুমোদন দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। খুলে দেয়া হয়েছে শপিংমল, পার্ক, গল্ফ কোর্স ও কিছু রেস্তোরাঁ। এতে এসব জায়গায় দেখা গেছে মানুষের ভিড়।

এর আগে রোববার দেশটিতে জারি থাকা সামাজিক দূরত্ববিষয়ক বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও ১৬ দিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন কর্মকর্তারা। তবে ধর্মীয় ও ক্রীড়াবিষয়ক কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

জার্মানিতে খুলেছে কিছু দোকানপাট -ধীরে ধীরে লকডাউন প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে জার্মানি। সোমবার থেকে দেশটি লকডাউনের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান পুনরায় চালু হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে জার্মানির স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

জার্মানিতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৮ জন, মারা গেছেন চার হাজার ৭০৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৯১ হাজার ৫০০ জন। এ হিসাবে দেশটির ৬০ শতাংশের বেশি রোগী এখন সুস্থ। আর কোনো দেশে এত রোগী এখনও সুস্থ হয়নি।

ডেনমার্কে খুলল সেলুনসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-ডেনমার্কে সোমবার থেকে সেলুনসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেয়া হয়েছে। চালু করা হয়েছে প্রাইমারি স্কুল ও নার্সারিগুলোও।

যুক্তরাজ্যের ড্যানিশ অ্যাম্বাসেডর লার্স থুয়েসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা যদি হাসপাতালে, আইসিইউতে এবং ভেন্টিলেটর ব্যবহার করতে থাকা রোগীর সংখ্যা পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে সব সংখ্যাই হয় স্থিতিশীল আছে অথবা ধীরে ধীরে কমছে।

ডেনমার্কে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৫১৫ জন, মারা গেছেন ৩৬৪ জন।

নরওয়ে ও পোল্যান্ডে খুলছে স্কুল-ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে করোনাভাইরাস তাণ্ডব চালালেও অনেকটাই ভিন্ন চিত্র নরওয়ের। লকডাউনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এখন পর্যন্ত তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে দেশটি। রোববার থেকে দেশটির কিছু নার্সারি স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। কয়েকটি পার্ক খুলে দিয়েছে পোল্যান্ড।

এছাড়া লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে স্পেন, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়েতে। তবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলে এরপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হবে।

সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ও মেক্সিকোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও ইউরোপের বিপর্যস্ত দুই দেশ ইতালি ও স্পেনে করোনার তেজ কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও মৃত্যু কমে এসেছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১