আপডেট : ২৫ April ২০২০
করোনাভাইরাসের প্রভাবে মধুপুর বনের বানর-হনুমানসহ বণ্যপ্রাণীরা নাকাল হয়ে পড়েছে। এ বনের বিপুল সংখ্যক বানর-হনুমান চরম খাদ্যাভাবে পড়েছে। খাদ্যোর সন্ধানে লোকালয়ে গিয়ে বেঘোরে মারা যাচ্ছে অভুক্ত বানর-হনুমান। এক কথায় করোনায় করুন পরিণতি হয়েছে বন্য প্রাণীদের। পশু পাখি বিশারদ ও গবেষক অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন জানান, জানুয়ারী-এপ্রিল মধুপুর বনে অসংখ্য পর্যটক আসা-যাওয়া করে। বনের বানর-হনুমানসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখিগুলো আগত পর্যটকদের আকৃষ্ট করে থাকে। পর্যটকরাও খুশি হয়ে বানর-হনুমানগুলোকে কলা, বিস্কুট, পাউরুটিসহ বিভিন্ন ধরনের বাড়তি খাবার দিয়ে থাকে। অথচ প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে প্রশাসন থেকে এ বনে পর্যটক আসা-যাওয়ার উপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে করে মধুপুর বনের জাতীয় উদ্যান, দোখলা পিকনিক স্পট, লহুরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র ও চিড়িয়াখানাসহ দর্শনীয় স্থানগুলো বর্তমানে একেবারে জন মানবশূন্য হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সরকারী খাবারেরও অপ্রতুলতা রয়েছে। ফলে এ বনের বানর-হনুমানগুলো চরম খাদ্য অ্রভাবে পড়েছে। এদিকে মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা, জাতীয় সদর উদ্যান, চাড়ালজানি ও রসুপুর রেঞ্জের আওতায় বানর-হনুমানের খাদ্য উপযোগী শাল-গজারী, কাইকা, সাইদা, আজুলী, জয়না, ভুতুম, কুম্বি, জিগা, সোনালো ও সেন্দুরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উজাড় হওয়ার কারণেও বানর-হনুমানের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সন্তোষপুর রাবার বাগানের কর্মচারী মাজহারুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন ও আলমগীর হোসেন জানান, বানর-হনুমান দেখার জন্য এ বনে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যাক দর্শক আসতো। তারা বানর-হনুমানগুলোকে কলা, কেক, বিস্কুট, পাউরুটি দিয়ে আনন্দ পেত। কিন্তু করোনার কারণে লোকজন আসা-যাওয়া বন্ধ করায় বন্য প্রাণীরা বাড়তি খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাছাবাড়ী গ্রামের স্কুল শিক্ষক সন্তোষ কুমার জানান, বন থেকে বানর-হনুমানগুলো খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আনারস, কলা বাগানে যেতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক পাড়ি দেয়ার সময় গাড়িচাপায় মারা যাচ্ছে। বেড়িবাইদ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জুলহাস উদ্দিন বলেন, মধুপুর বনাঞ্চলের বানর-হনুমান ও হরিণের জন্য সরকার প্রতিমাসে মোটা আংকের টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু এ বরাদ্দ বানর-হনুমান ও হরিণের জন্য সঠিকভাবে ব্যয় করা হয় না। এ জন্যই অভুক্ত অবুঝ প্রাণীগুলো খাবারের সন্ধানে বন ছেড়ে লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। এ বিষয়ে মধুপুর বনের লহুড়িয়া বিটের বিট অফিসার আ. জলিল জানান, টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতায় জাতীয় সদর উদ্যান, দোখলা ও চাড়ালজানি রেঞ্জে প্রায় ১০ হাজার বানর-হনুমান রয়েছে। এদেরকে সরকারীভাবে টোকেন খাবার হিসেবে কলা, বাদাম ও বিস্কুট দেয়া হয়। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় চাহিদামত খাবার দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া করোনার কারণে পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় বাড়তি খাবারও পাচ্ছে না। মধুপুর বনাঞ্চালের বন্য প্রাণীর খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার উত্তম কুমার জানান, এ বনের বানর-হনুমানের খাবার সরবরাহের জন্য প্রতিমাসে মাত্র ৯ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং লহুড়িয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্রের জন্য ৩২ হাজার ৯৪০ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ৱমধুপুর বনের সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন জানান, এ বনের বানর-হনুমানগুলোকে বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিত খাবার দেয়া হয়।
মধুপুর উপজেলার জলছত্র গ্রামের আনারস চাষী ওমর শরীফ ও মুনতাজ আলী জানান, খাদ্যের অভাবে বন থেকে প্রতিদিন দল বেঁধে বানর-হনুমানগুলো বেরিয়ে এসে আশপাশের আনারস, কলা ও সবজি বাগান তছনছ করে এবং বিভিন্ন ফল-ফলাদী সাবাড় করে ফেলে। আর এসব ফল-ফলাদী ও ফসল রক্ষা করতে অনেকেই বিষটোপ ব্যবহার করে থাকে। এতে অনেক বানর-হনুমান মারা যাচ্ছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১