বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৬ April ২০২০

সাধারণ ছুটির আওতায় নেই তামাক কোম্পানি

তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়


প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি চলছে। অথচ ভয়াবহ এই সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী তামাকপন্য উৎপাদন ও বিতরণের জন্য তামাকের বহুজাতিক কোম্পানি ও কারখানাগুলো কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এর প্রেক্ষিতে দেশে করোনাভাইরাস আরও মহামারী আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশের তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যূতে দেশব্যাপী সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনগুলো। ইতোমধ্যে সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া তৈরি করেছে এসব কার্যক্রম।

আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে দেশের তামাকবিরোধী ৮টি সংস্থা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক যৌথ প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

তামাকবিরোধী ফেসবুক পেইজ 'Tobacco Free We-তামাকমুক্ত আমরা’ এর সহযোগিতায় দেশব্যাপী ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে ৮টি সংগঠন ও সংস্থার ফেসবুক পেইজে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তামাকবিরোধী এই আটটি সংস্থা ও সংগঠন হলো- ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা), প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা), ন্যাশনাল হার্ড ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্সানিয়া মিশন (ড্যাম), এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি), সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) এবং তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)।

প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে দেশে সাধারণ ছুটি চললেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও করোনার ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী তামাকপণ্যকে নিত্যপণ্য বিবেচনায় এনে শিল্প মন্ত্রণালয় তামাকের বহুজাতিক কোম্পানি ও কারখানাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিয়েছে।

তামাককে নিত্যপণ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অবিলম্বে তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানায় তারা।
এছাড়া সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিকভাবেই দেশের তামাকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এজন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই ৮টি সংস্থা তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে (অনলাইনে) তামাকবিরোধী নানা কার্যক্রম ও আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল তামাকজাত পণ্য বিক্রয়ের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ; সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনে সহযোগিতা করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দেয়া নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা থেকে সিগারেটকে বাদ দিতে হাজার হাজার সচেতন নাগরিক প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইনে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন। তামাককে মৃত্যুর কারখানা উল্লেখ করে হাজারও মানুষ তাদের ফেসবুক প্রোফাইলে মৃত্যুর এই কারখানা বন্ধের দাবি সম্বলিত একটি ফ্রেম যুক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই করোনা ভাইরাসে ধূমপায়ীরা বেশি আক্রান্ত কিংবা মৃত্যুবরণ করছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। এজন্য করোনার ভয়াবহতা থেকে ধূমপায়ীদের সতর্ক করতে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১