বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০১ May ২০২০

গৌরনদীতে খালে বাঁধ দেওয়ায় ৩ গ্রামে জলাবদ্ধতা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি


বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপনের সময় ৩টি গ্রামের পানি প্রবাহ’র একমাত্র খালটি ভরাট করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে বর্ষার পানি নিস্কাশন হতে না পারায় সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধার ফলে প্রায় ৫০০ একর জমির ধান, পাট, পান বরজসহ নানা ধরনের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অনেক জমি রয়েছে অনাবাদি। ভূক্তভোগী কৃষকরা এর প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ডিজিএম এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কৃষকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত সহযোগীতা কামনা করেছেন।

জানা গেছে, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে বরিশাল পল্লী বিদ্যু সমিতি-২ এর আওতাধীন আরইইবিডিপি-২ এর অর্থায়নে গৌরনদী ৩,৩৩/১১ কেভি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নিমার্ণের কাজ ২০১৮ সালের এপিল মাসে শুরু হয়।

বার্থী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুরুল হক বেপারী বলেন, ‘বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটি নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালু ভরাট করে কটকস্থল, তাঁরাকুপি ও পশ্চিম বাউগাতি গ্রামের পানি প্রবাহ’র একমাত্র খালটি ভরাট করে। এ সময় এলাকাবাসী পানি নিস্কাশনের জন্য কালভার্ট নির্মানের দাবিতে গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে কোনো সাড়া না পেয়ে এলাকাবাসী কাজে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে গত বছর জুন মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান রাতের আধারে অপরিকল্পিত ভাবে নামে মাত্র একটি পাইপ বসিয়ে রাস্তা নির্মান করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। সেই পাইপ দিয়ে কোনো প্রকার পানি প্রবাহ হয় না। পানি প্রবাহ না হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়’।

তাঁরাকুপি গ্রামের জানে আলম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তার ২০ শতক জমি অনাবাদি রয়েছে। কটকস্থল গ্রামের মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতার কারণে আমার তিন একর জমির আঁধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ধান ঘরে তুলতে পারবো কি না তা নিয়ে দুর চিন্তায় আছি’। একই ভাবে জানালেন তাঁরাকুপি গ্রামের পারভীন বেগমসহ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

তাঁরাকুপি গ্রামের আঃ হালিম বেপারী জানান, পল্লী বিদ্যুতের বাঁধের কারণে তারসহ অনেকের পান বরজে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। কটকস্থল গ্রামের কৃষক কেরামত আলী মাঝি জানান, তার ৪ একর জমির মেজতা ও বগি পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া সবজিসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গতকাল নিজ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের পাশের খালে দেয়া নামে মাত্র পাইটি দু’পাশের মাটি কেটে পানি প্রবাহর জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু পানির স্থর থেকে নিস্কাশনের পাইপ অনেক উপরে স্থাপন করায় পানি প্রবাহ হচ্ছে না। ভূক্তভোগী কৃষকরা প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্যাদা তিনটি গ্রামের জলাবদ্ধাতা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কথা চিন্তা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান লিখিত আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সরেজমিনে তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে’। 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১