বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৩ August ২০২০

দুর্গাপুরে পথ পাঠাগার


বর্তমান সমাজে মোবাইল ফোন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত তরুণ প্রজন্মেরা । খেলাধুলা থেকে শুরু করে অবসর সময় সবটুকুই তরুণরা কাটছে স্মার্টফোনগুলোতে ।

গল্পের বই এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে অজানা এক বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে । এখনকার যুগে শিক্ষার্থীরা খুব কমই পাঠ্যসূচির বাইরে গল্পের বই পড়ে থাকে । সময়ের সাথে সাথে গল্পের বই পড়া ক্রমান্বয় নিচে নামছে ।

দেশে করনা প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে থেকেই স্কুল কিংবা বাড়িতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির বইগুলো পড়লেও গেল ছয় মাসে তাও কমে এসেছেন অনেকেই ‌। এখন শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে ক্লাস করছেন । এদিক থেকে বলা যায় বইয়ের ব্যবহার অনেকটাই কমে এসেছে ।

তবে তরুণ প্রজন্মকে আবারও বইয়ের দিকে আকৃষ্ট করতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ করেছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কিছু তরুণ ।

মানুষ নয় বই চলে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায় । যাতে করে সহজেই মানুষ বই পড়তে পারে । এই স্বপ্ন নিয়ে দুর্গাপুরে চালু হয়েছে পথ পাঠাগার নামে নানারকম বইয়ের সমাহার ।

উপজেলার সর্বত্রই এই বইয়ের শাখা প্রতিষ্ঠায় ছুটে চলছে উদ্যোক্তারা । প্রতিটি বাজারের মোড়ে মোড়ে দোকানগুলোতে তাদের শাখা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগটি ।

ইতিমধ্যে উপজেলা প্রায়ই তিনটি স্থানে তাদের তিনটি শাখা ও প্রতিষ্ঠা করেছেন তরুণরা । গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বহেরাতলীত গ্রামে পথ পাঠাগারের তৃতীয় শাখার উদ্বোধন করেন টংক আন্দোলনের সংগ্রামী নারী কুমুদিনী হাজং ।

এর আগে একই ইউনিয়নের দ্বিতীয় শাখা রিকশা চালক তারা মিয়া ও প্রথম শাখা পৌরসভার এমকেসিএম স্কুল মোড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার হাত দিয়ে উদ্বোধন করা হয় ।

অল্প সময়েই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই পথ পাঠাগার । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পাঠাগারের নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম শুভকামনাও জানিয়েছেন উদ্যোক্তাদের । আর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষাঙ্গনের কর্তা ব্যক্তিরা । তাদের মতে এমন একটি উদ্যোগ মানুষের বই পড়ার আগ্রহ অনেকাংশেই বৃদ্ধি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা ।

পথ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হুদা সারোয়ার জানায়, মানুষ এখন অনেকটাই বই বিমুখী । তাই তাদেরকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে আমাদের ছোট্ট একটি উদ্যোগ । বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম যারা কিনা আজ মরণব্যাধি মাদকসেবনে তাদের জীবন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । তাদেরকে মাদকটি কি ফিরিয়ে আনতেই এবং বই পড়ায় উৎসাহিত করতে এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি । আমরা প্রতিটি পাড়ায় প্রতিটি মহল্লায় এবং গ্রামে আমাদের এই শাখা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বই পড়ার প্রবণতা তৈরি করতে চাই । অনেক প্রবীণ রয়েছে যারা কিনা আগে অনেক বই পড়তেন কিন্তু এখন বই না পাওয়ায় তারাও এখন বই পড়তে পারেন না । মাঝে মাঝে দোকান গুলোতে এসে পত্রিকা পড়ে তারা সময় অতিবাহিত করেন । তাই দোকানগুলোতেও আমাদের এই শাখা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সমাজের প্রবীণ থেকে তরুণ সবাই যেন সহজেই বই পড়তে পারে ওই চেষ্টায় আমরা করে যাচ্ছি ।

সুসঙ্গ আদর্শ বিদ্যানিকেতন প্রধান শিক্ষক একেএম ইয়াহিয়া জানায়, এরকম একটি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনেক চমকপ্রদক । মানুষ সহজেই বই পড়ায় যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্য দিয়ে শুধু বই পড়ে আকৃষ্ট হলো না, নানা রকম অজানা তথ্য তার জানা হলো । বিশেষ করে গ্রামগুলোতে এই উদ্যোগটি আরো বেশি সাফল্যমন্ডিত হবে বলে আমি মনে করি । তার জন্য যে স্থানগুলোতে পাঠাগারের স্থাপন করা হবে যদি একটু পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে সবাই একত্রে বসে সহজে বইগুলো পড়তে পারবে । আর দোকানগুলোতে এই শাখা স্থাপনে অনেকেই কেনাকাটা ফাকে বইয়ের দিকে একটু নজর বুলিয়ে নিতে পারবে । সআ মিলিয়ে এমন একটি উদ্যোগ সমাজে জ্ঞান সঞ্চয়ের ভালো একটি ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি ।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১