বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২২ September ২০২০

কলমাকান্দায় ট্রলার ডুবে নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা


কলমাকান্দায় গুমাই নদীতে ট্রলার ডুবিতে ১২ জন নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শন করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান। গঠিত এই কমিটি ১১ দিন পরে গত সোমবার মোট পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান সাংবাদিকদেরকে জানান , প্রতিবেদনে একটিই কারণ রয়েছে সেটি অদক্ষ চালকের ওভারটেকের কারনেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। যাত্রীবাহী ট্রলারটি কলমাকান্দার রাজনগর এলাকায় আসলে একটি ঘাটে অপেক্ষমান যাত্রীরা তোলার জন্য ডাকছিল। এদিকে যাত্রীবাহী ট্রলারটি অপর একটি বাল্কহেডকে ওভারটেক করতে গিয়েই যাত্রী তুলতে এগিয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। যে কারণে ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ১০ জনের লাশ ওইদিনই স্থানীয়রা উদ্ধার করে। দুদিন পরে আরো দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চালক সহ ৫ আসামি জেলা কারাগারে আছে।

তিনি আরো জানান, এই ঘটনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিছু সুপারিশ ওঠে এসেছে যা পর্যায়ক্রমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কি কি নৌ চলাচল করে আমরা ইতিমধ্যেই সেগুলোর তালিকা করতে বলে দিয়েছি। নৌ রুট গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর লাইসেন্স নিয়ে ১৬ শক্তির অধিক শক্তি সম্পন্ন নৌযান চালানোর জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি। পাশপাশি খারাপ আবহাওয়ায় কোন নৌকা চলাচল করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থেকে ছেড়ে আসা ঠাকুরাকোণার উদ্দেশ্যে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার গুমাই নদীতে বাল্কহেডকে ওভারটেক করতে যেয়ে ডুবে যায়। এতে ট্রলারের ভেতরে থাকা নারী শিশুরা মারা যায়। ঘটনার দিনই স্থানীয়রা ৪ নারী ও ১ পুরুষ এবং ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর দুদিন পরে আরো ২ জনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেন।

দুঘটনার দুদিন পর আব্দুল ওয়াহাব (৪০) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলা করেন। আব্দুল ওয়াহাব সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা। ওই দুর্ঘটনায় তিনি বেঁচে গেলেও তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে মারা যায়। মামলায় যাত্রীবাহী ট্রলার চালক সোহাগ মিয়াসহ (৩৫) ছয়জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রলার চালককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১