বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৫ October ২০২০

প্রজনন মৌসুমে বেড়ায় ইলিশ ধরার প্রস্তুতি


আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার ও পূর্ণিমার পরের এ সময়ে প্রায় ৮০ শতাংশ মা ইলিশ ডিম পাড়ে। মা ইলিশ ডিম পাড়ে মিঠা পানিতে। সে কারনে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার ও পূর্নিমার পরে ইলিশের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশ আহরোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ০৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মোট ২২ দিনের এ সময়কে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম বলে ধরা হয়। প্রজনন মৌসুমে প্রজনন ক্ষেত্রের পাশাপাশি দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুম আসার আগেই পাবনার বেড়া উপজেলা, সুজানগর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চৌহালী ও মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার যমুনা পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহের এক শ্রেণীর অসৎ মৎসজীবি ও মৌসুমী মৎস্য শিকারীরা ইলিশ মাছ ধরার জন্য আগে থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছে বলে এলাকার বসবাসকারীরা জানিয়েছেন।

উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকা মোহনগঞ্জ, মালদাহপাড়া, পেচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, চর পেচাকোলা, চর নাকালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া, চর নাগদাহ্, হাটাইল আড়ালিয়া, রাকসা, বাটিয়াখড়া, নগরবাড়ী, ঢালার চর ও কাজীরহাট এলাকার চোরা ইলিশ শিকারীরা নিজেদের প্রস্তুত করছে। উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চলের চরনাগদাহ্ গ্রামের তোফাজ্জল মীর, জায়েদ মোল্লা, ওমর আলী মোল্লা, চর নাকালিয়া গ্রামের আ. আজিজ, খরবাগানের বাবলু মাঝিসহ অনেকেই জানান, চর পেচাকোলা, চর নাকালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া, চর নাগদাহ্, খরবাগান, মিনিদিয়া, উমারপুর, শৈলজানা, দত্তকান্দি, বাচামারা, বাগুটিয়া, চর কাটারি গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা মেরামত,নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল সহ ইলিশ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে ও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইলিশ মাছ ধরার জন্য। বেড়া উপজেলা সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী সোনাতনী, গালা, কৈজুরি ইউনিয়ন ও চৌহালী উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী ইউনিয়ন গুলোতে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি চলছে জোড়েসোড়ে। জেলার বেড়া ও সুজানগর উপজেলার যমুনা পদ্মার সংযোগস্থল এবং পদ্মার তীরবর্তী এলাকা সমূহের মৎস্য শিকারীরাও তৎপর হয়ে উঠেছে।

তারা জানান, প্রজনন মৌসুমে পাবনার বেড়া, সুজানগর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চৌহালী ও মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার সীমানা সংলগ্ন যমুনা পদ্মা নদীতে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে। বিস্তির্ণ চরাঞ্চলে নদীর পার ঘেষে ওতপেতে থাকে ইলিশ শিকারীরা। প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসৎ মৎস্যজীবি ও মৌসুমী মৎস্য শিকারিরা পুলিশি গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে দিনে-রাতে জাল ফেলে হাজার হাজার কেজি ইলিশ মাছ ধরেছে এবং গোপনে বিভিন্ন স্থানে মজুদ ও বিক্রি করে অনেইে টাকার মানুষ হয়েছেন।

অসৎ ইলিশ শিকারীদের প্রস্তুতির তৎপরতা দেখে এবারো সরকারী নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে জাল দড়ি নৌকা নিয়ে যমুনা পদ্মায় ঝাঁপিয়ে পড়বে রুপালী মা ইলিশ আহরনে। অল্পদিনে অনেক টাকা মুনাফার আশায় আগে থেকেই এসব এলাকার এক শ্রেণির অসৎ মৎস্যজীবি ও লোকজন পুরানো নৌকা মেরামত করাসহ নতুন নৌকা তৈরি করে ইলিশ মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জানা যায়, নৌকা, নৌকায় লাগানোর জন্য শ্যালো ইঞ্জিন ও মাছ ধরার জাল প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল সংগ্রহের জন্য বেড়া বাজার, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া বাজার,পদ্মাপাড়ে রাজবাড়ী বাজারে চলছে ইলিশ শিকারীদের আনাগোনা। সুকৌশলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রেতা দোকানের বাইরে দামদর ঠিক করে দোকানের বাইরেই ক্রেতার হাতে জাল তুলে দেওয়া হয়, নিষিদ্ধ জাল বিক্রির জন্য এসব হাট বাজার গুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য দালাল। মাছ সংরক্ষণ করার জন্য কর্কশিটের তৈরি বাক্স (বরফ দিয়ে মাছ রাখার বাক্স) দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব সামগ্রী কেনা-বেচার ধুম পড়ে গেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। হাট বাজারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল যে কোন মূল্যে বিক্রি বন্ধ করতে হবে,এসব চোরা শিকারীদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে নদীতে দিন রাত আরও পুলিশী টহলের ব্যবস্থা করতে এবং দ্রুতগতি সর্ম্পন্ন নৌযান নিয়ে ২৪ ঘন্টা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১