বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৪ October ২০২০

ভূরুঙ্গামারীতে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট: মণ দরে বিক্রি হচ্ছে খড়


চড়া দামে গো-খাদ্য কিনতে হওয়ায় গরু ও মহিষ নিয়ে বিপাকে পরেছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে এবছর গো-খাদ্য হিসেবে বহুল ব্যবহৃত খড়ের দাম চড়া হওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্যের যোগান দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব কৃষকদের। খড় কিনতে না পেরে অনেক কৃষক তাদের জমির কাচা ধান গাছ কেটে কেটে গরু-মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এক একটি খড়ের আঁটি ১৫-২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে একশো খড়ের আঁটির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। বিগত বছরগুলোতে একশো খড়ের আঁটির দাম ছিল সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। অপর দিকে প্রতি কেজি ধানের কুঁড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা দামে। এছাড়া বাজারে অন্যান্য যে সব গো খাদ্য বিক্রি হয় তা কেনার সামর্থ্য নেই অনেক গরু পালনকারীর। তাই তারা বাধ্য হয়ে তাঁদের গরু-মহিষ কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। অনেকে আবার গরু মহিষকে কচুরিপানা কিনে খাওয়াচ্ছেন। এছাড়া বাঁশ, কাঁঠাল ও কলা পাতার ওপর ভরসা করছেন অনেক কৃষক।

গো-খাদ্যের এই উচ্চ মূল্যের জন্য অতি বর্ষণকেই দায়ী করছেন অনেকেই। এবছর উপজেলা জুড়ে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়া এবং অনাবাদী জমিতে পানি জমে থাকায় একদিকে যেমন তৃণ সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অতিবৃষ্টিতে কৃষকের সংরক্ষিত খড় ও খড়ের আঁটি পঁচে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। যার ফলে গো-খাদ্যের এই তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যন্ত্রের সাহায্যে ধান মাড়াই করার সুবিধার্থে ধান গাছের গোড়ার দিকে বেশ খানিকটা বাদ দিয়ে কর্তন করাও খড় সংকটের আরেকটি কারণ।

ভূরুঙ্গামারী বাজারে খড় কিনতে আসা তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাইয়ের বাসিন্দা মাহামুদ আলী জানান, ঘাস পাওয়া যায় না, বৃষ্টির কারণে ঘাস না থাকায় গরুগুলোকে খড় খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাড়তি দাম দিয়ে খড় কিনতে হচ্ছে।

চর ভূরুঙ্গামারীর ইসলামপুরের জহুরুল হক জানান, নদী ভাঙনে অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এছাড়া নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় ঘাসের অভাব দেখা দিয়েছে। গরুগুলোকে তো বাঁচাতে হবে তাই তিনগুণ বেশি দামে খড় কিনছি। তিনি আরও কয়েকজন  জানান, এবছর উপজেলার কয়েক স্থানে মণ দরে খড় বিক্রি হচ্ছে। এক মণ খড়ের দাম প্রায় ১২-১৪শ’ টাকা। এর আগে কখনও মণ দরে খড় বিক্রির কথা শোনা যায়নি।

পাথরডুবী ইউনিয়নের মধ্য পাথরডুবী গিয়ে দেখা যায় কৃষক কামরুল ইসলাম খড় যোগাড় করতে না পেরে ক্ষেতের কাঁচা ধান গাছ কেটে কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

খড় বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলায় খড়ের তেমন মজুদ নেই। খড়ের চাহিদা মেটাতে অন্য জেলা থেকে খড় এনে বিক্রি করছি। খড়ের দাম আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

গো-খাদ্য সংকটের কারণে গবাদি পশুর নানা রকম রোগবালাই দেখা দিয়েছে। এতে মাংসের জন্য পালনকরা গবাদি পশুর ওজন কমে যাচ্ছে। অপরদিকে দুধ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মমিন গো-খাদ্যের এই তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করেছেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১