আপডেট : ১৬ November ২০২০
পাঁচ হাজার ৪০০ মিটার দৃশ্যমান। আর বাকি পাঁচটি স্প্যান। তাহলেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়ন। ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার নিয়ে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ উচ্ছ্বসিত। এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলাতে উঁকি দিচ্ছে পদ্মা সেতু-এ কথা বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। আর এটির সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এক অদম্য বাংলাদেশকে চিনবে বিশ্ব। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে। আর এ সেতুকে কেন্দ্র করে দুই পারের মানুষ স্বপ্ন দেখছে নতুন করে। তাদের চোখমুখে নতুন আশা। সেতুর দুই পাড়ে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেস সড়কে সেতু এলাকার পরিবেশে লেগেছে নতুন রং। এরই মধ্যে অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। রোজগার বেড়েছে অনেকের। জমির দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। অনেক হাউজিং প্রকল্প ঢুকেছে সড়কের পাশের এলাকায়। সেতু পুরোপুরিভাবে নির্মাণ হলে এসব এলাকায় পর্যটনশিল্প, শিল্পকারখানা, ব্যবসা, হোটেল-মোটেল গড়ে উঠবে। ঘুরে দাঁড়াবে সেখানকার অর্থনীতি। উন্নয়নের ধারাকে কাজে লাগাতে ও আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে চলছে অর্থ বিনিয়োগ। বেড়েছে মহাসড়কের আশপাশের এলাকার জমির দাম। অনেকে এসব এলাকায় জমি কিনে সাজাচ্ছেন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। অনেক প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে শুরু করছে। গড়ে উঠছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিস। ফলে এসব এলাকার মানুষ নতুন কর্মক্ষেত্র, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা পরিবর্তনের স্বপ্ন ফুটে উঠেছে মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের। মাদারীপুরের শিবচর এলাকার রবিউল ইসলাম জানান, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের গতি যতই বেড়ে চলেছে ততই আমাদের এলাকাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস বইছে। সত্যিই আমরা আনন্দিত। পরিবর্তন হয়েছে এলাকার পরিবেশ। উন্নত হচ্ছে রাস্তাঘাট। নির্মাণ হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিষ্ঠান। বেড়েছে জমির দাম। অনেকে সড়কের পাশের এলাকার জমি কিনে ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার চিন্তা করছেন।’ রবিউল বলেন, ‘সেতুর কাজ শেষ হলে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিল্পকারখানার যানবাহনের রাজধানীতে যাতায়াত সহজ হবে। বাড়বে বিনিয়োগ। আমরাও রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় অল্প সময়ে যেতে পারব। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে নাব্য সংকট, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় ফেরি বন্ধ থাকে। আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পদ্মা সেতু হলে সেই দুর্ভোগ আর পোহাতে হবে না, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।’ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলায়ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাব পড়েছে জোরেশোরে। এসব এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জমি কেনা শুরু করেছে। লৌহজংয়ের দক্ষিণ মেদিনী মন্ডল এলাকার শরিফুল ইসলাম সঞ্জীব বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরে গেছে। নির্মাণকাজে এলাকার অনেক শ্রমিককে নিয়োগ দেওয়ায় বেকারত্ব কিছুটা কমেছে। আয় রোজগার বেড়েছে অনেকের। জমির দামও বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। অনেক হাউজিং প্রকল্পও ঢুকেছে সড়কের পাশের এলাকায়। এলাকাবাসী স্বপ্ন দেখছে পদ্মা সেতু হলে এসব এলাকায় পর্যটনশিল্প, শিল্পকারখানা, ব্যবসা, হোটেল-মোটেল গড়ে উঠবে। ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতির চাকা। এদিকে স্প্যান বসানোর পাশাপাশি স্ল্যাব বসানোর কাজও এগিয়ে চলেছে। বন্যা, নদীতে প্রবল স্রোত ও পানি বৃদ্ধির কারণে চার মাস স্প্যান বসানো হয়নি। তবে এখন কাজ চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে সেতুর মোট ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩৬টি স্প্যান বসানো হয়ে গেছে। এতে দৃশ্যমান হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ মিটার সেতু। বাকি থাকছে আর পাঁচটি স্প্যান। গত অক্টোবরের মতো এ মাসেও চারটি স্প্যান ও আগামী ডিসেম্বরে বাকি দুটি বসানোর মধ্য দিয়ে স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হবে। এ পাঁচটি স্প্যান বসানো হলেই দৃশ্যমান হবে মূল সেতুর পুরো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, মূল সেতুর ২ হাজার ৯৭০টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১ হাজার ১৮৯টি বসানো হয়েছে। ২ হাজার ৯৫৮টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৬৮৬টি। মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্টে মোট ৪৩৮টি সুপার টি গার্ডারের মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ১৫০টি ও জাজিরা প্রান্তে ২৩৪টিসহ ৩৮৪টি স্থাপন করা হয়েছে। নানাভাবে আলোচিত স্বপ্নের সেতুকে ঘিরে পদ্মার সেই জল কম ঘোলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় মনোবল বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে এ দেশের কিছু মানুষের চোখ রাঙানি দমাতে পারেনি তাকে। অবশেষে যে কর্মযজ্ঞের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে সেতুর কাজ তাতে খুব দ্রুত সফল বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব চিনবে অদম্য এক বাংলাদেশকে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) মূল সেতুর কাজ করছে। এ ছাড়া নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১