বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৩ December ২০২০

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চালু হচ্ছে মেট্রোরেল

কাজের অগ্রগতি ৫৩%


২০২১ সালে স্বাধীনতা লাভের ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বছরই দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন হবে। তাই করোনার বাধা উপেক্ষা করেই এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে ৫৩ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। সরেজমিন দেখা যায়, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও অংশে রেলপথ বা ভায়াডাক্ট বসানোর পর এখন চলছে রেল লাইন তৈরির কাজ। দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলছে পিলার নির্মাণ। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন বসানো হচ্ছে রেলপথ। এই অংশে যাত্রী ওঠানামার জন্য থাকবে ৯টি স্টেশন। তবে পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চলাচলের জন্য প্রথমে তিনটি স্টেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

মেট্রোরেলের দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার। এই অংশে পাইলিং শেষে পিলার তৈরির কাজ চলছে। ফার্মগেট এলাকার কিছু অংশে পিলারের ওপর রেলপথ বসানোর জন্য ৩০ মিটার রেলপথ বা ভায়াডাক্ট স্থাপন করা হয়েছে। 

এদিকে করোনার ধাক্কায় কিছুটা গতি হারিয়ে ফেলেছে এ প্রকল্প। এতে গত এপ্রিল-অক্টোবর মাসে মাত্র ৮ দশমিক ১২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে প্রকল্পটির। ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটিতে পাঠানো প্রকল্পটির সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, মেট্রোরেল প্রকল্পের আট প্যাকেজের মধ্যে শুধু প্রথমটির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলোর অগ্রগতি অনেক ধীর। ফলে নভেম্বরের শেষে মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ফার্স্ট ট্র্যাক কমিটিতে পাঠানো প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, করোনার কারণে মেট্রোরেল প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে নিয়োজিত ঠিকাদার ও পরামর্শকদের একটি অংশ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। পরে তারা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন না করায় নির্মাণকাজ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে জাপানের জনবল প্রত্যাবর্তন শুরু করেছে। তাছাড়া ৩১ অক্টোবর পর্যন্তু প্রকল্পের ২৭২ জন কর্মী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কারো মৃত্যু হয়নি।

প্রকল্প তথ্যমতে, উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল প্রকল্পের ১নং প্যাকেজের (সিপি-০১) আওতায় রয়েছে উত্তরায় ডিপোর ভূমি উন্নয়ন। ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে এ প্যাকেজের চুক্তি সই করা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে এ প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হয়। আর ২ নং প্যাকেজের (সিপি-০২) আওতায় ডিপোর পূর্ত কাজ চলছে। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়। অক্টোবর পর্যন্ত এ অংশের অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। যদিও গত বছর জুনের মধ্যে এ অংশের নির্মাণ করার কথা ছিল।

প্রকল্পটির ৩ ও ৪ নং (সিপি-০৩ ও ০৪) প্যাকেজের আওতায় উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট (উড়ালপথ) ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট এ প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত এ প্যাকেজের অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। সিপি-০২, সিপি-০৩ ও সিপি-০৪ বাস্তবায়ন করছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইটাল-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। তবে সিপি-০২ এ ইটাল-থাইয়ের সহযোগী হিসেবে আছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন।

এদিকে মেট্রোরেলের ৫ নং প্যাকেজের (সিপি-০৫) আওতায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং বিজয় সরণি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় তিনটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ অংশের কাজ যৌথভাবে করছে জাপানের টেকেন করপোরেশন, অ্যাবে নিক্কো ও বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড। অক্টোবর পর্যন্ত এ অংশের অগ্রগতি ৫০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মেট্রোরেলের ৬ নং প্যাকেজের (সিপি-০৬) আওতায় কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শাহবাগ, টিএসসি, প্রেস ক্লাব ও মতিঝিলে চারটি মেট্রো স্টেশনও নির্মাণ করা হবে। এ অংশের কাজ যৌথভাবে করছে জাপানের সুমিতোমা মিতসুই কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ইটাল-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। অক্টোবর পর্যন্ত এ অংশের অগ্রগতি ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ।

এদিকে ৭ নং প্যাকেজের আওতায় মেট্রোরেলের স্টেশনগুলো ওঠানামার জন্য চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট, প্রায় ২০ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায় ব্যবস্থাপনা, ১৩২ কেভি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও ট্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম, প্ল্যাটফরম স্ক্রিন ডোর ইত্যাদি স্থাপন করা হবে। এর কাজ করছে জাপানের মারুবিনি করপোরেশন ও ভারতের এলঅ্যান্ডটি (লারসন অ্যান্ড তুবরো)।

২০১৮ সালের ১১ জুলাই প্যাকেজটির কাজ শুরু হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত এ অংশের অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। প্যাকেজের আওতায় থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে। তবে করোনার কারণে এগুলোর শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে। তাই কবে নাগাদ দেশে এসে পৌঁছাবে তা নিশ্চিত নয়। দেশে আসার পর এসব অংশ স্থাপন শুরু করা হবে।

সর্বশেষ ৮ নং প্যাকেজের (সিপি-০৮) আওতায় মেট্রোরেলের জন্য রোলিং স্টক (ইঞ্জিন-কোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করছে জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম। এর মধ্যে ২৪ সেট ট্রেন এবং ডিপো ইকুইপমেন্ট ছাড়াও ট্রেন সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ প্যাকেজের বাস্তব কাজ শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত এ অংশের অগগ্রতি ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

এরই মধ্যে ৫৩ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড কোম্পানি লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এজন্য প্রথম তিনটি স্টেশনের ওপর কাজের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে ইলেকট্রিক্যাল কাজ আছে। প্লাম্বিংয়ের এ কাজগুলো আমরা ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছি। ট্রায়াল রান করার মতো প্রস্তুতি আমরা মাথায় রেখেই কাজ করছি। প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। আমার সংশোধিত পরিকল্পনায় প্রায় আড়াই বছর আগে এটি বাস্তবায়ন করছি।

মেট্রোরেলের প্রথম তিনটি স্টেশন সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথম স্টেশন উত্তরার উত্তর ডিপো থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে। দ্বিতীয় স্টেশন উত্তরা সেন্টার মিরপুর ডিওএইচএস ও উত্তরার ডিপোর ঠিক মাঝামাঝি। তৃতীয় স্টেশন হচ্ছে ডিওএইচএস লাগোয়া উত্তরার দক্ষিণ অংশে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১