বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৪ December ২০২০

শিক্ষার্থী-অভিভাবকের ক্ষোভ প্রকাশ

বাউফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ


পটুয়াখালীর বাউফলের সাবপুরা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই করোনাকালিন বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা আদায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানায়, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বেতন যথাক্রমে ৬০, ৭০, ১শ’ ও ১শ’ ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন, আইসিটি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ মোট ১ হাজার ৪০ টাকা, ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৩শ’ ৮০ টাকা, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৮শ’ ও ৯ম-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। পরীক্ষার খাতাসহ প্রশ্নপত্র ফটোকপির দোকান থেকে সংগ্রহ করলেও অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয় বিষয় প্রতি ২০ টাকা হারে। জমা নেয়া হয়নি বেতনসহ অন্যান্য ফি পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের এ্যাসাইনমেন্ট খাতা। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে বেতনাদিসহ যাবতীয় ফি পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের উপরের ক্লাসে উন্নীত করা হবে না সাফ জানিয়ে দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, বছরের বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে মাসিক ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মাসিক একই হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে আইসিটির ক্লাসের নামেও। এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি সুবিধা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ্যাসাইনমেন্ট খাতা জমা দিতে আসা বিদ্যালয়ের ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বেতনের বাইরে অন্যান্য ফি দিতে অস্বীকৃতির কারণে জমা নেয়া হয়নি তাদের এ্যাসেইনমেন্ট খাতা।’

আবু বকর নামে একজন শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘এই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক নিম্নআয়ের। কেউ দিনমজুরী করে। আবার কেউ কেউ রিক্সা ও ভ্যান গাড়ি চালায়। এদের অনেকেরই ধার্যকৃত এই টাকা দেয়া সম্ভব না। করোনা কালীন এই সময় অনেকেরই আয়-বাণিজ্য নাই।’  

এ ব্যাপারে সাবপুরা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন আদায় করা হচ্ছে। এক সাথে ১২ মাসের টাকা নেয়ায় অর্থের পরিমান বেশী হয়েছে।’ আইসিটি ক্লাসের নামে ২০ টাকা ও বিদ্যুৎ বিলের নামে ২০ টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের তিনটি মিটারের মাসে ৪-৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। বিশেষ কোন ফান্ড না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তবে ৫০ জন গরীব ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়নি।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি ইয়াছিন এবিএম শাহজাদা বলেন, ‘স্কুলের উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত কিছু অর্থ নেয়া হয়েছে। তা এমন কোন দোষের নয়।’

এ ব্যাপারে জানতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হকের মোবাইলফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১