আপডেট : ২০ December ২০২০
এম জহিরুল ইসলাম বাবা-মার মতো এই পৃথিবীতে আপনজন আর কেউ-ই নেই। পরম করুণাময় আল্লাহরাব্বুল আলামিনের পর বাবা-মা-ই সন্তানের কাছে অধিক শ্রদ্ধেয়। মহান স্রষ্টা আমাদের সৃষ্টি করেছেন সীমাহীন অনুগ্রহ ও দয়া দিয়ে। তাই আমাদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা এবং তাঁর ইবাদত করা। এরপর যাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করা উচিত। তারা হলেন বাবা-মা। তাদের কারণেই আমরা এই পৃথিবীর মুখ দেখতে পেরেছি। একথা অনস্বীকার্য, শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সন্তান যতই বৃদ্ধ হোক না কেন বাবা-মার কাছে সন্তান সর্বদা শিশুর মতো। আজন্ম সন্তান বাবা-মার কাছে স্নেহ, আদর আর দয়া-মায়াতেই লালিত-পালিত হয়। বাবা-মা কখনো সন্তানের অমঙ্গল কামনা করেন না। বাবা-মা শত দুঃখ-কষ্ট পেলেও সন্তানের জন্য সর্বদা শুভ কামনা করেন। দোয়া করেন। সন্তানের প্রতি বাবা-মার ভালোবাসা যতই আত্মিক হোক না কেন, জনক-জননী হিসেবে বাবা-মার অধিকার ও তাদের প্রতি সন্তানের কর্তব্য পালনে যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পরবর্তী জীবনে এই দায়িত্বের কারণেই সন্তানের ওপর বাবা-মার অধিকার আরো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। জন্মগতভাবে সন্তানের প্রতি বাবা-মার যে অধিকার রয়েছে-তা কিন্তু অনেকের কাছ থেকে আদায় করা যায় না। কেবল সন্তানই বাবা-মার প্রতি তার কর্তব্য পালন করে তাদের অধিকারকে অক্ষুণ্ন রাখতে পারে। বাবা-মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আল্লাহপাক কোরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্বব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বল, হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’ (সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ২৩-২৪)। অর্থাৎ তাদের অন্তরে কোনো কষ্ট বা চোট লাগে এমন ব্যবহার করবে না। বাবা-মার সঙ্গে মিষ্টিমধুর সদালাপ করো। তাদের সামনে বড়ত্ব বা কেদদারি ভাব প্রদর্শন করবে না। তারা যেমনি অতি আদর-স্নেহে-যত্নে লালন-পালন করেছেন, তোমরা তাদের প্রতি তেমনিভাবে সদয় হও। জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে বাবা-মার নির্দেশ মান্য করা সন্তানের কর্তব্য। কিন্তু বাবা-মা যদি ইসলামবিরোধী কাজ করতে নির্দেশ দেয় বা চাপ প্রয়োগ করে, সেক্ষেত্রে বাবা-মার আল্লাহদ্রোহী আদেশ অমান্য করার জন্য আল্লাহপাকের নির্দেশ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সন্তান বাবা-মাকে ত্যাগ করতে পারবে না বা তাদের সঙ্গে কোনোরূপ দুর্ব্যবহার করা যাবে না। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যদি বাবা-মা তোমার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন আমার সঙ্গে শরিক করার জন্য যা তোমার বোধগম্য নয়, তাহলে তাদের কথা মেনে নিও না। আর পার্থিব জীবনে উৎকৃষ্ট পন্থায় তাদের সঙ্গে সৎ সম্পর্ক বজায় রাখ। আর তুমি তাদের পথ অনুসরণ করো না।’ (সুরা লোকমান, আয়াত-১৫) একবার এক ব্যক্তি আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! আমার বাবা-মার ইন্তেকাল হয়েছে, তাদের জন্য আমার কী কী হক পালনীয়?’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, নামাজ আদায় করে গুনাহখাতা মাফির জন্য আল্লাহরাহমানুর রাহিমের দরবারে ক্ষমা ফরিয়াদ করো এবং তাদের কোনো খানে কোনো ওয়াদা থাকলে তাও যথাযথ পালন করো।’ আরেকবার কোনো এক ব্যক্তি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! আমি কার সঙ্গে আদব রক্ষা করব, সদ্ব্যবহার করব। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাৎক্ষণিক বলে দিলেন, ‘তোমার বাবা-মার সঙ্গে।’ লোকটি আবার বলল, তারা তো ইন্তেকাল করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন, ‘তার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা অনেক সময় লক্ষ করি কোনো কোনো সন্তান বাবা-মাকে অবজ্ঞা, অবহেলা ও ঘৃণার চোখে দেখে এবং তাচ্ছিল্য করে। এটা আদৌ ন্যায়সঙ্গত নয়। যা ধর্ম ও সমাজের নীতিমালার ঘোর পরিপন্থি। সন্তানের কাছে বাবা-মার সম্মান সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জেনে রাখো, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি। বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহপাকের অসন্তুষ্টি।’ অতএব, দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালে বেহেশত পেতে হলে অবশ্য অবশ্যই বাবা-মার প্রতি সেবা-যত্ন, সম্মান ও আনুগত্য থাকতে হবে। সর্বোপরি স্মরণ ও বরণ করে নিতে হবে, বাবা-মার প্রতি সন্তানের কর্তব্য অপরিসীম।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১