বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২২ December ২০২০

সামরিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ


অবশেষে বিভিন্ন সামরিক সরকারের আমলে জারি করা এনবিআর এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশকে রহিতকরণের পাশাপাশি আইনগুলোর কার্যকারিতা রক্ষা করে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। গত ২০ ডিসেম্বর রোববার এনবিআর কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, এ সময় ১৯৮৪ সালে জারি করা ফাইন্যান্স অর্ডিন্যান্স ও ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্সসহ যেসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে সেগুলো আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে যুগোপযোগী করে নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি যেগুলো রহিত করা প্রয়োজন সেগুলো রহিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (স্ট্যাম্প, সঞ্চয় ও শুল্ক শাখা) অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘দুটি সামরিক সরকারের আমলে এনবিআর এবং আইআরডি সংশ্লিষ্ট যেসব অর্থ আইন বা ফাইন্যান্স অর্ডিন্যান্স ছিল সেগুলো কীভাবে রহিত করে এর কার্যক্রমগুলোকে রক্ষা করে পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করা যায় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর কয়েকটি সামরিক শাসনামলে সংসদ এবং সংবিধান কার্যকর না থাকায় রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন আদেশ বা ফরমানের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়। এসব অধ্যাদেশ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় ১৯৮৬ সালে সংসদ গঠিত হওয়ার পর ৫ম ও ৭ম সংশোধনীর মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশকে বৈধতা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। এরপর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এসব অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত কার্যক্রমগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় জটিলতা তৈরির প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে অধ্যাদেশগুলোকে সাময়িক কার্যকর রাখতে নতুন দুটি আইন প্রণয়ন করা হয়। তবে ক্রমান্বয়ে অধ্যাদেশগুলোকে সংসদের মাধ্যমে আইনে রূপান্তর কিংবা বিকল্প আইন তৈরির বিষয়ে ওই দুটি আইনে বলা হয়। পাশাপাশি যেসব অধ্যাদেশের প্রয়োজন হবে না সেগুলোকে বিলুপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সবশেষ চলতি বছরের ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে দুটি সামরিক শাসনামলে জারি করা যে অধ্যাদেশগুলো এখনো আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলো আইনে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার জন্য  সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আয়কর সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান আরো জানান, আগের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এনবিআর এবং আইআরডির কার্যক্রম পরিচালনায় কোন সমস্যা হয়নি। নতুন আইন প্রণয়ন ও সংসদে পাস হলে সেটি কার্যকর এবং ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স রহিত করা হবে। এর ফলে কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না। তিনি বলেন, একটি আইন বাতিল করে যখন কোনো নতুন আইন প্রণয়ন করা হয় তখন কিছু ‘সেভিংস ক্লজ’ দেওয়া হয় যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়। আগের আইন দ্বারা পরিচালিত কোনো কাজ যাতে প্রশ্নের সম্মুখীন না হয়, কিংবা অবৈধ না হয় সেই পথ বন্ধ করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১