আপডেট : ১২ January ২০২১
সত্তরোর্ধ্ব স্বামী সন্তান হারা ঠিকানাহীন পারভীন আক্তার। বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পাশে পড়ে থাকতে দেখে সেখান থেকে এক নারী তুলে এনে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই বৃদ্ধার ঠাঁই মিলেছে হাসপাতালের ফ্লোরে। ওই খানেই তার এখন ঘর বসতি। গত কয়েক দিন ধরে এই বৃদ্ধা এভাবেই হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে তার দিন কাটছে। স্বামী নেই একথা বললেও তার সন্তান আছে কি না বাড়ি কোথাই এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি। শুধু ও আল্লাহ ও ‘বাবা’ ‘বাবা’ বলে ডাক ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছেন না তিনি। তার সাথে কথা বলে জানা যায় বর্তমানে হাসপাতালেই এখন যেন তার ঠিকানা। অনেক বছর আগে তার স্বামী মারা যাওয়ায় তিনি এখন একা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা তাকে খাবার দিয়ে আসছেন। তবে বয়সের ভারে সে সব সমস্যা মানুষের থাকে সেসব লক্ষণ আছে এই বৃদ্ধার শরীরে। তবু হাসপাতালে ঠাঁই নিয়েছেন শুধু থাকা আর ভাতের নিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধা মাস তিনেকের মতো আগে হাসপাতালে থেকে গেছেন। গত ৬ জানুয়ারি আবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিজিয়া আক্তার বলেন, তাহমিনা নামে এক মহিলা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে সে এখানেই থাকছেন। ডাকলে মুখে শুধু প্রলাপের মতো শব্দ করে। আর কিছুই বলতে পারছেন না তিনি। ওই নারী কোমরের ব্যাথার জন্য দুইটা ঔষধ খায়। তবে ওনার তেমন কোন সমস্যা নেই। থাকা আর খাওয়ার নিশ্চয়তার জন্য আগেও কয়েক মাস থেকে গেছেন। পারভীন আক্তার জানায় সহায় সম্পদ কিংবা স্বজন বলতে তার কেউ নেই। তবে তার ঠিকানা না বললেও পৌর শহরের খড়মপুর মাজার এলাকায় তিনি মূলত থাকতেন বলে জানায়। সুযোগ পেলে এলাকায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। এখন আর তার কাজ করতে শক্তি কুলায় না। এরআগেও তিনি কয়েক মাস হাসপাতালে থেকে গেছেন। কিছুদিনের জন্য বাইরে গিয়ে আবার চলে এসেছেন । এখানে থাকা ও খাবার ব্যবস্থা থাকায় তিনি যেতে চান না। উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শ্যামল কুমার ভৌমিক বলেন, ওই নারীর তেমন কোন সমস্যা নেই। তিনি মূলত থাকা খাওয়ার জন্যই আগে টানা কয়েক মাস থেকে গেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন উদ্বাস্ত হিসাবে কাউকে হাসপাতালে থাকার নিয়ম নেই। তবে ওই নারী রোগী হিসাবে ভর্তি আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন হওয়ায় ও মাজার শরীফ থাকায় মাঝে মাঝে এ ধরণের অনেক লোক আসে যাদের কোন পরিচয় পাওয়া যায় নি। তবে তিনি তেমন অসুস্থ নন। মূলত থাকা খাওয়া নিশ্চিত করতেই তিনি এ খানে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত চিকিৎসাসহ সব ধরণের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১