বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৬ January ২০২১

ভোলায় গাছের মালিকানা দ্বন্দ্বে মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ বন্ধ


ভোলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশের গাছের মালিনাকা নিয়ে চলছে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব। এতে বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ৩৩ ফুট প্রশস্তকরণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।   ৮৪ কোটি টাকার ওই কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু আদালতে মামলার নিস্পত্তি না হওয়ায় যথা সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে কি না তা নিয়ে এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও রাস্তার দুই পাশে অনেক স্থানে মাটি কেটে তা ভরাট না করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত  প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়কের ১৮ ফুট রাস্তাকে ৩৩ ফুট করার উদ্যোগ নেয় ভোলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য সড়কের ২ পাশে থাকা গাছ অপসারণের জন্য বন বিভাগকে সড়ক দপ্তর চিঠি দেন। বন বিভাগও ওই গাছ কেটে ফেলার জন্য টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করেন। বন বিভাগের ঠিকাদার গত আগস্ট মাসে রাস্তার পাশের গাছ কাটা শুরু করে। পাশাপাশি সড়ক বিভাগও ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহবান করে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিলে তারাও রাস্তার ২ পাশে মাটি কেটে গর্ত করে কাজ শুরু করেন। কিন্তু ওই গাছের মালিকানা দাবী করে গত বছর আগস্ট মাসে সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিও উচ্চ আদালতে মামলা করে। ওই মামলার নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ২০২০ সালের ২২ আগষ্ট থেকে বন বিভাগ গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। গাছ কাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়ক বিভাগের কাজও অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বন বিভাগ জানায়, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ২০১০ সালে এই গাছরোপন করা হয়। এই গাছ বিক্রি হলে তার ৫৫ ভাগ টাকা পাবে বন বিভাগের স্থানীয় উপকারভোগী । আর বাকী ৪৫ ভাগ টাকা পাবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, সড়ক ও বন বিভাগ।

অন্যদিকে সমাজ উন্নয়ন সংস্থারা কর্মীরা জানান, ২০১২ সালে তারাই রাস্তার পাশে গাছ লাগিয়ে ছিল। গাছের মালিক তারা। আর এই গাছের মালিকানা দাবী করে তারা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত যে রায় দিবে সেই গাছ পাবে বলে জানান তারা।

এদিকে গাছ কাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাস্তা সম্প্রসারণ কাজ ব্যহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পড়েছে বলে জানান ঠিকাদার গালিভ ইবনে ফেরদাউস।

জন গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার কাজ বন্ধ হওয়ায় সড়কের ২ পাশে বড় বড় গর্ত থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে এক দিকে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ৭ ডিসেম্বর ওই কাটা রাস্তার পাশে বাস দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত হয়। এসময় দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সড়কের পাশের গর্তে পড়ে যায়।

 

ভোলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম জানান,বন বিভাগ সড়কের পাশের ওই গাছ ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে রোপন করে। আদালতের রায়ে এই গাছ বন বিভাগ পেলে স্থানীয় জনগণ লভ্যাংশ পাবে এবং সরকারও উপকৃত হবে। পাশাপাশি সরকারের যে চলমান প্রকল্প তা স্বাভাবিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ভোলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ মামলা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। ওই মামলার রায় না আসা পর্যন্ত কাজটি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তি না হলে প্রকল্পের কাজ ব্যহত হওয়ায়র আশংকা রয়েছেন বলে জানান সড়ক বিভাগের এই কর্মকর্তা।

ওই রাস্তা প্রসস্তকরণের কাজ দ্রুত শুরু করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১