বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০১ February ২০২১

ডাক্তার-নার্স শূণ্য মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিপাকে রোগীরা


কুমিল্লার মনোরহগঞ্জ উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার নার্স শূন্য, অগ্নিদগ্ধ শিশু মোসাম্মত হালিমা আক্তার (১২) আগুনে পোড়া শিশুকে নিয়ে বাবা হুমায়ুন হাসপাতলে ডাক্তারের খোঁজে দিশেহারা।

গত শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ২টার সময় শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুনের মেয়ে বাড়িতে রান্নাঘরের ল্যাম্পের আগুন কাপড়ে লেগে গিয়ে শরীর দগ্ধ হয়। তাৎক্ষনিক মনোহরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। জরুরী বিভাগ সহ কোন বিভাগে ডাক্তার, নার্স ও অফিস কর্মকর্তা কেউই হাসপাতালে ছিলেন না। অনেকক্ষণ পর রোগীর অভিভাবকদের চিৎকার শুনে হাসপাতালের বাহির থেকে ইলেক্ট্রিশিয়ান মাইনুদ্দিন দৌড়ে এসে জরুরী বিভাগের রেজিস্ট্রেশন খাতায় রোগীর নাম রেজিস্ট্রেশন করেন। ঐ সময় মনোহরগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সাংবাদিক আবদুর রহিম সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক হাসানের ভ্যাক্সিনের অনলাইন আবেদন করতে গেলে দেখেন পুরো হাসপাতাল জুড়ে কোন ডাক্তার, নার্স ও অফিস কর্মকর্তা সহ কেউই কর্মস্থলে নেই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় হাসপাতালের ডাক্তার এম এ রায়হান রাশেদের উপজেলা হাসপাতালের পাশে তার বাড়ি হওয়ায় সত্ত্বেও সে হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে সে প্রাইভেট হাসপাতালে সকাল ১০টার পর থেকে রোগী দেখতে দেখা যায়। হাসপাতাল গুলো হল মেডিনোভা মেডিকেল সেন্টার, ফি আমানিল্লাহ হাসপাতাল, ফেয়ার মেডিকাল সেন্টার। এই সকল সেন্টারে প্রয়োজন ছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে গরীব ও নিরিহ রোগীদের হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, মেডিনোভা মেডিকেল সেণ্টারে তার শেয়ার রয়েছে। ওই সেন্টারের নিকটে তার আত্মীয় দ্বারা পরিচালিত একটি ফার্মেসি রয়েছে। ডাক্তার এম এ রায়াহান রাশেদের নিজ এলেকায় কর্মস্থল হওয়াতে বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের বিনিময়ে সার্টিফিকেট সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এবং রোগীদেরকে বিভিন্ন টেষ্ট করাতে বাধ্য করতেন।

ডাক্তার শামীম হোসেন একজন ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের দায়িত্বশীল কিন্তু সে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রোগী দেখেন। হাসপাতাল গেটে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি তার নিজ দায়িত্বে পরিচালনা করেন। রোগী আসা মাত্রই ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে তার নিজস্ব সেবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠান। হাসপাতালে তার দ্বায়িত্বে রৌশোনারা সহ কয়েকজন মহিল দালাল রাখেন তিনি। তাদের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য রোগীদেরকে তার সেবা সেন্টারে পাঠান। এছাড়াও তার নিজ গ্রাম কেয়ারিতে আলি আশ্রাফ মুন্সি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সেখানে তিনি রোগী দেখেন।

টি এস ও ডাক্তার নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী কে হাসপাতালে মাঝে মাঝে দেখা যায়। ওই দিন তিনও কর্মস্থলে ছিলেন না। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় ডাক্তার ও নার্সগণ টি এস ও কে ম্যানেজ করে কর্মস্থলে আসেন না। এবং উপজেলা হাসপাতালের সামনে সরকারি অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সময় দেন।

সরকারি হাসপাতালে ২০-২৫ জন ডাক্তার নার্স অফিস কর্মকর্তা পিয়ন আয়া নিয়োগ থাকলেও কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান ডাক্তারদের যোগসাজশে হাসপাতালের প্যাথলজির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারের দেয়া সকল যন্ত্রপাতি থাকা সত্বেও প্যাথলজি বিভাগ চালু করছেন না । ডাক্তার না থাকার বিষয়ে নির্বাহী অফিসার সোহেল রানার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বিষয়টি দেখতেছি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১