আপডেট : ১২ February ২০২১
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ২৫টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। অবৈধ এসব ইটভাটায় মানা হয় না কোন সরকারি নিয়মনীতি। অবৈধ এসব ভাটা মালিকরা সরকারি আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিকে কয়লার পরিবর্তে কাঠ আর ফসলি জমির উপরি ভাগের (টপ সয়েল) মাটি কেটে বহাল তবিয়তে চালাচ্ছে ভাটা। ফলে এলাকার বাগান (ফলজ ও বনজ বাগান) হচ্ছে উজার কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫ টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৬টি অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এসময় নাম মাত্র ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে ভাটার আংশিক ক্লিন। বৃহস্পতিবার ঢাকা ও কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ ভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঢাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান। ভাটা মালিকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে ভাটা নির্মাণ ও পরিচালনার পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এ সময় আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেশ ভাটাকে ৫ লাখ, চিৎলা বস ভাটায় ৭লাখ, নিউ বোস ব্রিক্সে ৬ লাখ, মর্ডান বিক্সে ৪ লাখ, রেড-২ ব্রিক্সে ৭ লাখ ও লাবনী ব্রিক্সে ৭ লাখ সর্বমোট ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় ভাটার ক্লিন এর আংশিক ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া উপ পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান, সহকারী পরিচালক কুষ্টিয়া কমল কুমার বর্মন, র্যাব ৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পের ডিএডি এমদাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যর একটিদলসহ পুলিশ সদস্যরা। ঢাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান, অবৈধ ভাবে ইটভাটা চালানোর অপরাধে ৬ টি ভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ইট পুড়ানোর ছাড়পত্র না থাকায় এসব অবৈধ ভাটায় অভিযান চলিয়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। অভিযানে সহায়তা করেন, র্যাব, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। চুয়াডাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া কৃষি আবাদের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। এ জেলার মাটিতে সারাবছরই চাষাবাদ হয়ে থাকে। এক কথায় যাকে বলা হয় তিন ফসলি জমি। তিন ফসলি জমি ও জনবসতী এলাকা গড়ে তুলেছে অধিকাংশ এসব অবৈধ ইটভাটা। সরেজমিনে বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে দেখাগেছে, হাতে গোনা ২/৩ টা বাদে অধিকাংশ ইটভাটায় কায়লার পরিবর্তে প্রকাশে দেদারছে কাঠ পোড়াচ্ছে। আর ইট তৈরিতে ব্যবহার করছে তিন ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি (টপ সয়েল)। ভাটাগুলোর দিকে তাকারে মনে হয় এরা ফসলি জমি আর বোনজ সম্পদ ধ্বংসের উৎসবে মেতেছে। এলাকার বনজ সম্পদ ও ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ভাটা মালিকরা ভাটার বিশাল এলাকা জুড়ে প্রকাশ্যে পাহাড়সম মাটি ও কাঠের স্তুপ করে রেখেছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১