বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১১ March ২০২১

রায়পুরার নীলকুঠি জমি দখলের অভিযোগ, লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তন


নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ গ্রামে (নীলকুঠি) জোর পূর্বক জমি দখল ও গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাহমুদাবাদ টান পাড়া গ্রামের (বড় বাড়ির) মৃত মো. নূর আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী রেশমী আক্তার ও মৃত মো.আলী আহম্মেদের স্ত্রী রোমা বেগম এ অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ব্যাক্তিদ্বয় হলেন, মৃত নূর আলম ও মৃত আলী আহাম্মেদের চাচাতো ভাই মো. বোরহান উদ্দিন ভূইয়া ও মো. দেলোয়ার ভূঁইয়া।

এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাছাড়া কোটে জমি সংক্রান্ত মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগকারী রেশমী আক্তার বলেন, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জোর করে মো. বোরহান ভূঁইয়া ও মো. দেলোয়ার ভূঁইয়া কিছুদিন আগেও জমিতে থাকা লক্ষাধিক টাকার কাঠ গাছ কেটে ফেলে। যার কিছু সংখ্যক করাতকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর কিছু গাছ এখনো জমিতে কাটা অবস্থায় আছে। খবর পেয়ে জমির বর্তমান দখলদার ও মালিক রেশমী আক্তার ও রোমা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিতে চাইলে বোরহান ও দেলোয়ার অকথ্য ভাষায় তাদেরকে গালাগাল করে এবং লোকজন নিয়ে দাওয়া করে। আত্মরক্ষার জন্য তারা পালিয়ে আসে এবং ৯৯৯ এ কল করে। পরে পুলিশ আসলে বোরহান ও দেলোয়ার সহ সবাই কাঠ বাগান থেকে পালিয়ে যায়।

মৃত মো. আলী আহমেদের স্ত্রী রোমা বেগম বলেন, তাদের শ্বশুর মৃত মো. লায়েছ ভূইয়া পৈতৃক সূত্রে এই জমির মালিক হন। জমির পরিমাণ ৩০ শতাংশ। প্রায় ৫০ বছর যাবৎ এই জমি তারা ভোগ দখল করে আসছে। কারও কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু গত ৪ বছর আগে তার স্বামী আলী আহম্মেদ ও ভাসুর নূর আলম দুই ভাই মারা যায়। মৃত দুই ভাইয়ের ছোট ছোট ৪ জন শিশু সন্তান রয়েছে। বাড়ীতে কোন পুরুষ মানুষ নেই। এই সুযোগে বোরহান ও দেলোয়ার ১৯৬৮ সালের ভূয়া দলিল দেখিয়ে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে বলেও জানান রোমা বেগম।

রোমা বেগম আরও বলেন, বোরহান ভূঁইয়ার দাবি অনুযায়ী জমিটি ১৯৬৮ সালে তার দাদা মৃত মো. আব্দুল আক্কাছ ভূইয়া বোরহানের মায়ের নামে লিখে দেয়। দলিলে যে দলিল লিখকের নাম আছে তিনি ১৯৭৬ সালে লাইসেন্স পান। এবং এটা দলিলে উল্লেখিত ভেন্ডরের হাতের লোখা না বলেও দাবি করেন। স্থানীয় কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ প্রতিবেশীও জমিটির মালিক রোমা বেগম ও রেশমী আক্তারের শ্বশুর মৃত মো. লায়েছ ভূইয়ার বলেই জানান। অভিযোগকারী রোমা বেগমের বাবা মো. আবু বকর জানান, বোরহান ভূঁইয়ার দলিলের কপি নিয়ে বলিউম তালাশ করে কিছুই পাওয়া যায়নি। এতেই প্রমাণ হয় বোরহান ভূঁইয়ার দেখানো দলিলটি জাল দলিল। এ ঘটনায় অসহায় বিধবা দুই স্ত্রী ও তাদের পিতৃহীন সন্তানেরা প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে বোরহান উদ্দিন ভূইয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, কাগজপত্র নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েকবার আলোচনায় বসার কতা বলেছি। কিন্তু মৃত আলীম ভূইয়া ও মৃত নূর আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী বিষয়টি নিয়ে বসতে রাজি হচ্ছে না।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১