বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৪ March ২০২১

ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫ বছরের শিশু সন্তান বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি


মাত্র পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু জামিলা আক্তার। এই বয়সে যার সহপাঠীদের সাথে স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা ও ঘুরে বেড়ানোসহ আনন্দে দিন কাটার কথা। কিন্তু সেই বয়সে বেশিরভাগ সময় কাটছে তার হাসপাতাল আর বাড়ির বিছানায়। প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে এই শিশু দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। সুস্থতার জন্য কিমো দেওয়া আর ওষুধপত্রে প্রতি মাসে চিকিৎসা ব্যায় হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে জামিলার চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন দরিদ্র অটো রিকসা চালক বাবা মো.মজিবুর রহমান।

শিশুটির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুরপহেলা গ্রামে। অর্থের অভাবে দরিদ্র পরিবারের শিশু জামিলার চিকিৎসা এখন বন্ধের উপক্রম। মজিবুরের পরিবারে স্ত্রী ২ ছেলে ১ মেয়ে সহ ৫ জনের সংসার। অটো রিকশার আয় দিয়ে চলে তার সংসার। কিন্তু মেয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে সব আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে হতভাগ্য বাবার। শিশু জামিলাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এখন যেন দু:শ্চিন্তার শেষ নেই। তাই দরিদ্র বাবার পক্ষে চিকিৎসার এত ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, স্বাভাবিক ভাবে জন্ম হয় শিশু জামিলার। অন্য ১০টা ছেলে মেয়ের মতো শিশু জামিলা বড় হতে শুরু করে। কিন্তু ৩ বছর ৮ মাসের মাথায় তার একটি চোখে সমস্যা দেখা দেয়। অন্ধকারে থাকলে একটি চোখের মনি অস্বাভাবিক দেখায়। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কোন উপায় না পেয়ে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পড়ে কুমিল্লায় একটি হাসপাতালে তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা কারানো হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখায় শিশুটির বাবা। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে শিশুটির চোখে ক্যান্সার ধরা পরে। প্রায় এক বছর ধরে চলছে এই মারণব্যাধির চিকিৎসা। শিশুর মা আসমা বেগম বলেন, চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচতে হলে তাকে অন্ত:ত ১৬ টি কিমো দিতে হবে। ইতিমধ্যে ৯টি কিমো দেওয়া হয়। রোগ নির্নয় করার পর সন্তান বাঁচাতে নিজের যা কিছু এবং ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে টাকার অভাবে তার চিকিৎসা অনেকটাই যেন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কি ভাবে সন্তানের চিকিৎসা করাবেন কিমো দেবেন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন এচিন্তায় তারা মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জামিলাকে সঠিক ভাবে চিকিৎসা করালে দ্রুত ভাল হয়ে উঠবে। তাকে বাঁচাতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

আত্মীয়স্বজনসহ অন্যের কাছে ধারদেনা কওে বেশ কিছু দিন শিশুটির চিকিৎসা সচল রেখেছেন তার বাবা মজিবুর। কিন্তু এখন অর্থ সঙ্কটে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। তাই সমাজের দানশলী বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি পরিবারের লোকদের।

কান্না জড়িত কন্ঠে শিশুটির বাবা মজিবুর রহমান জানান, আমি অটো রিকশা চালিয়ে যা আয় করতাম তা দিয়ে কোনও রকম সংসার চলতো। কিন্তু হঠাৎ করে আমার মেয়েটার ক্যান্সার ধরা পড়ায় তার চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। মেয়েকে নিয়ে ঢাকা আর বাড়িতে আসা যাওয়া করায় একপ্রকার সব রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে আছে। আমি মানুষের কাছে ধারদেনা করে মেয়ের চিকিৎসায় ব্যয় করে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার এই অবুঝ শিশুটিকে বাঁচাতে একটু সাহায্য করুন। বাচ্চার কষ্ট আমার আর সহ্য হচ্ছে না। এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন । শিশুটির চিকিৎসার খরচ জোগাতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১