বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৭ March ২০২১

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় মানবতার দাফন


যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় মানব নিধন ও ধ্বংসযজ্ঞের মহাতাণ্ডব চলছে। সমপ্রতি বিশ্বের সবচে বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলো সিরিয়া। অবশ্য দেশটিকে বিশ্বের সবচে বড়ো ধ্বংসনগরী বললেও ভুল হবে না। ২০১১ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে দেশটির জনগণ শান্তিমূলক বিক্ষোভ করার পর থেকেই জনগণের বিরুদ্ধে দমন, পীড়ন, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা হয়। ফলে দেশটির নিপীড়িত জনগণ জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।

যেভাবে গৃহযুদ্ধের সূচনা : গৃহযুদ্ধের সূচনাটা জানতে হলে একটু পেছনের দিকে যেতে হয়। ১৯২৪ সালে আরব রাষ্ট্রগুলো উসমানি খিলাফত থেকে আলাদা হওয়ার অল্পকিছু দিন পরেই ফ্রান্স সিরিয়া দখল করে নিয়েছিল। তখন সিরিয়াতে সুন্নি ছিল মোট জনসংখ্যার ৭৪ শতাংশ। শিয়া ১২ শতাংশ। খ্রিস্টান ১০ শতাংশ। কিন্তু বিস্ময়করভাবে দেশের সুন্নি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে একেবারে সংখ্যালঘু শিয়া আলাবি সমপ্রদায়ের সাথে ফরাসিদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। তাদের দিয়েই তারা সিরিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনী গঠন করে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উচ্চ ও সরকারি পদে শিয়াদের নিয়ে আসে। পরবর্তীতে এদের হাতেই দেশের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ফরাসিরা চলে যায়। এরপর শিয়া সমপ্রদায় ক্ষমতায় চেপে বসে। আল আসাদ ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত শাসন করে মৃত্যুবরণ করার পর তার ছেলে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসে। ২০১৮ সালে তার ক্ষমতারোহণের দেড় যুগ পূর্ণ হয়েছে।

ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকে নিয়ে বাশার আল আসাদ তার বাপের মতো সুন্নি মুসলিমদের সর্বদা জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখতো। তার এই জুলুম থেকে মুক্তি পেতেই ২০১১ সালে মার্চের মাঝামাঝিতে সিরিয়ার মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। কিন্ত বাশার আল আসাদ নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে ট্যাংক বাহিনী পাঠিয়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেদিন থেকেই ভয়াবহ এই গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। তবে নিপীড়িত জনগণ ও আসাদ বাহিনী ত্যাগ করা সুন্নি যোদ্ধারা জুলুমের বিরুদ্ধে মজবুতভাবে রুখে দাঁড়ায়। ফলে মাত্র বছর দেড়েকের মধ্যে তারা দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ দখলে নিয়ে ফেলেছিল। কিন্ত পরবর্তীতে রাশিয়া এসে এ যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। ফলে এ যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নেয়।

সিরিয়া যুদ্ধে বহির্বিশ্বের উপস্থিতি : সিরিয়া যুদ্ধে দেখা গেছে আমেরিকা বিদ্রোহীদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে। এদিকে ইরান রাশিয়া এবং লেবাননের সশস্ত্র সামরিক শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সাহায্য করেছে বাশার আল আসাদকে। এর কারণ কী? কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়, বিশ্বের মোড়লগিরি-ই এর একমাত্র কারণ। কেননা বিষয়টা কারো কাছে অস্পষ্ট নয় যে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার ও মোড়লগিরি করাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও রাশিয়ার দ্বন্দ্ব অনেক আগে থেকেই। একসময় বিশ্বের মোড়লগিরি রাশিয়ার হাতে ছিল। আফগানিস্তানে হামলা করে সে মোড়লগিরির অবসান ঘটলে আমেরিকা বিশ্বের সুপার পাওয়ার হয়ে দাঁড়ায়। সে হিসেবে সমপ্রতি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে আমেরিকার রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। আরব শাসকদের গোলামির শৃঙ্খলে বন্দি করে সেসব দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে আমেরিকা সে অঞ্চলে মোড়লগিরি করছে। তবে শুধুমাত্র সিরিয়া ছিল ব্যতিক্রম।

হাফিজ আল আসাদ ও তার উত্তরসূরী বাশার আল আসাদ আমেরিকার অধীনে না গিয়ে রাশিয়ার পক্ষে যোগ দিয়েছিল। আর আফগান যুদ্ধে বৃহত্তর সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া ভেঙ্গে খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়ার পর সিরিয়াই ছিল মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সর্বশেষ ঘাঁটি। সুতরাং রাশিয়া যখন দেখলো যে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকা বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করে তার মিত্রকে পরাস্ত করে শেষ ঘাঁটিটুকু কেড়ে নিচ্ছে, তখন সে ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র বিমান নিয়ে মাঠে নামে। বিদ্রোহীদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। এদিকে ইরানও অস্ত্র ও সৈন্য পাঠায়। কারণ হিজাজ ভূমিসহ পুরো মধ্যেপ্রাচ্য দখল করে বিশাল শিয়া রাষ্ট্র গঠন করার স্বপ্ন ইরানের অনেক আগে থেকেই। সে হিসেবে সিরিয়া মধ্যেপ্রাচ্যর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া, ইরান ও লেবাননের সামরিক শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লার সহযোগিতায় বাশার আল আসাদ বিজিত অঞ্চলগুলো একে একে প্রায় সব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়। আর তখন থেকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে নৃসংসতা, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের লোমহর্ষক এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়।

আইএসের উত্থান : ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ‘আইএস’র উদ্ভব ঘটে। তারা অল্পদিনেই ইরাকের ও সিরিয়ার বৃহৎ অঞ্চল দখল করে ইসলামী স্টেট নামকরণ করে। অতঃপর ২০১৪ সালের ২৯ জুন রমজান মাসে খেলাফতের ঘোষণা দেয়। আইএসের উত্থানের পর সিরিয়ায় ত্রিমুখী যুদ্ধের শুরু হয়। বাশার বাহিনী, বিদ্রোহী ও আইএস। প্রত্যেকে পরস্পরে লড়তে থাকে। এতে যুদ্ধ আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। এদিকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন আইএসআইএস দমনের নামে একটি জোট গঠন করে। অতঃপর শুরু হয় আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বর্বর হামলা। এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়। অতঃপর ২০১৭ সালের জুলাই মাসে আইএসের পতন ঘটে। তবে বাশার ও বিদ্রোহীদের মাঝে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে।

২০১৮ সালে বাশার বাহিনী ও রাশিয়া সর্বশেষ গণহত্যা চালায় দামেস্কের উপকণ্ঠে অবস্থিত গৌতায়। ফেব্রুয়ারি মাসে এ হামলা শুরু করে। আর ১৮ মার্চ তারা গৌতা দখল করে নেয়। এই সময়ে গৌতাবাসীর ওপর কিয়ামতের বিভীষিকা নেমে আসে। অব্যাহত বিমান হামলায় কেঁপে উঠে গৌতার আকাশ-বাতাস। ট্যাংক, কামান, বিমান হামলা ও মেশিনগানের গোলাবর্ষণে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মরেছে হাজার হাজার মানুষ। মরেছে গোলার আঘাতে। মরেছে ধ্বংস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। মরেছে আগুনে পুড়ে। দীর্ঘ অবরোধে খাদ্যর অভাবে মানুষ ঘাস পর্যন্ত খেয়ে জীবন বাঁচানোর ব্যার্থ চেষ্টা করেছে। এরপর আরো ভয়াবহ কিয়ামতের বিভীষিকা নেমে আসে আলেপ্পাবাসীদের ওপর। সেখানে যেই নৃশংসতা চালিয়েছে তার ভিডিও ফুটেজ দেখলে পাথরদিল মানুষের চোখেও পানি চলে আসবে।

১০ বছরের যুদ্ধে কী পেয়েছে বাশার আসাদ : ১০ বছরের যুদ্ধে সে পেয়েছে জনমানবশূন্য একটা ধ্বংসপুরী। পেয়েছে অসহায় নারী শিশুর তপ্তাশ্রুভেজা এবং ছোপ ছোপ রক্তমাখা জমিন। আলকুদস ও আলজাজিরার তথ্যমতে বিশ্বের সবচে ধ্বংসনগরী হলো সিরিয়া। আলজাজিরার তথ্যানুসারে অভিশপ্ত এই যুদ্ধের শুরু থেকে নিয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ লোক নিহত হয়েছে। পঙ্গু হয়েছে ২০ লাখের বেশি। স্বামী হারিয়েছে লক্ষাধিক নারী। ফলে তারা জীবন বাঁচাতে এক লুকমা আহারের জন্য হাড়ভাঙ্গা মেহনত করছে। বাধ্য হয়েছে শ্রমবাজারে নামতে। অধিকাংশ মানুষই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দশ বছরের যুদ্ধে স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবলীলায় ভিটাবাড়ি হারিয়ে লক্ষ লক্ষ পরিবার একটু নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। ১২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে। জীবন বাঁচাতে এক লুকমা আহারের জন্য তারা হন্যে হয়ে ফিরেছে।

আরবি সংবাদপত্র আশশারকুল আওসাতের তথ্যানুসারে বাশার আল আসাদ ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোক ও নারী শিশুদের নির্বিচারে হত্যার টার্গেট বানিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং কলকারখানাগুলোর ওপর টনকে টন বোমা মেরে মানুষসহ সেগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ফলে লাশ উদ্ধার করতে না পারায় সব নিহতের সংখ্যা গণনা সম্ভব হয়নি। নিহতের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও আল আসাদের কারাগারে নির্মম শাস্তিতে প্রাণ হারিয়েছে ৮৮ হাজারের চেয়ে বেশি মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস এবং মানবিক সহায়তা ও আর্থিক সংকটের কারণে সিরিয়ার বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর সব শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে কাজে নামতে বাধ্য হয়েছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের ইউনিসেফ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ঘোষণা করে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ২০২০ সালে ১২ মিলিয়ন ৪০ হাজার মানুষ ক্ষুধা নিবারণ পরিমাণ খাদ্য পায়নি। সমপ্রতি বছরে এই সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ৬০ শতাংশ মানুষ অনাহার ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা : প্রায় দশ বছর ধরে চলমান যুদ্ধে অর্থনৈতিক ধসের কারণে খাদ্যদ্রব্যর মূল্য ঊর্ধ্বগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের শুরু থেকেই দেশজুড়ে খাদ্যমূল্য যুদ্ধের পাঁচ বছর আগের তুলনায় ৩৩ গুণ বেশি বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা। অর্থনৈতিক ধসের কারণে মুদ্রার মান ৯৮% কমে গেছে। জাতিসংঘের একটা পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিরিয়াতে যুদ্ধের শুরু থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত ক্ষেত খামার ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বাদে শুধুমাত্র ভবন বিধ্বস্তেই ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির ৬০ শতাংশ বাসিন্দা গৃহচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্যসংস্থার মুখপাত্র ‘জেসিকা লসন’ জানায়, সিরিয়ায় আগের চেয়ে ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার হার তীব্রগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসও তাদের নাগালের বাইরে। চলমান সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয় এবং এভাবে আর কয়েকবছর মানব নিধন ও ধ্বংসযজ্ঞ যদি চলতে থাকে, তবে দেশটি জনশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। আলকুদস পত্রিকার এক সাক্ষাতকারে বেসরকারি সংস্থা হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালের লুসিল পাপন বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি, নিহত এবং গৃহচ্যুৎ হওয়ার দিক দিয়ে সিরিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে বেশি মানবতার লংঘন হয়েছে।’

মানবতার যেই আহ্বান নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কোথায় আজ সেই জাতিসংঘ? কোথায় তার মানবতা! বিশ্বের প্রায় প্রতিটা মুসলমানদের রক্ত ঝরছে। জাতিসংঘ দু একটা নিন্দা জানানো ছাড়া আর কী ভূমিকাই বা পালন করছে। অথচ জাতিসংঘ প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠায়। তাহলে সিরিয়া, কাশ্মীর, ফিলিস্তিনি ও মিয়ানমারে পাঠায়না কেন? অথচ জাতিসংঘ চাইলে এক মিনিটে দীর্ঘ এ যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। তাহলে কেন সে নীরব!

আশ্চার্য! মুসলিম দেশগুলোও একদম চুপ। আর আরব বিশ্বের সরকারগুলো যেনো মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ভোগবিলাস আর নারী নিয়ে তারা ব্যস্ত। সিরিয়ার মতো যেদিন তাদের পরিস্থিতি হবে তখন ঠিকই সব বুঝবে। বর্তমান বিশ্বে মানবতা বলতে কিছু নেই। সিরিয়ার জমিনে মানবতার দাফন হয়েছে। মানবতা যদি সত্যিই থাকতো, তাহলে আজ সিরিয়াবাসীর এই করুণদশা হতো না। কেউ না কেউ তার পাশে দাঁড়াতো। আহ! নবী-রাসুলদের পবিত্র ভূমি সিরিয়া আজ ভূতুড়ে ধ্বংসপুরী।

লেখক : ইয়াহইয়া বিন আবু বকর

ইসলামিক কলামিস্ট


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১