বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ April ২০২১

করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্য প্রশাসনের ৬ কর্মকর্তা


করোনা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করা স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ছয় শীর্ষ কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে সচিবসহ অন্তত তিনজন করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়েও আক্রান্ত হয়েছেন। কর্মকর্তাদের আক্রান্তের খবরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।  গত ২০ মার্চ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম, লাইন ডিরেক্টর মিজানুর রহমানসহ পাঁচ থেকে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হন। এর ১২ দিন পর আক্রান্ত হন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। টিকা নেওয়ার ৬৩ দিন পর তার শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। একই দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান রাজধানীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আক্রান্ত হলেন সারা বিশ্ব স্থবির করে দেওয়া ভাইরাসটিতে।

গত বছর জুন মাসের দিকে তিনি আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হন। গত বছরের ১৩ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী কামরুন নাহার মারা যান। আবদুল মান্নানও আক্রান্ত হয়েছেন টিকা নেওয়ার পরে। গত ২৮ জানুয়ারি প্রথম ডোজের করোনা টিকা নিয়েছিলেন। একই দিন সংক্রমণ ধরা পড়ে তার একান্ত সচিব নেওয়াজ হোসেন চৌধুরী। তিনি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে কাজ করেন।

সচিব ও তার একান্ত সচিব আক্রান্ত হওয়ার এক দিন আগে একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) কাজী জেবুন্নেছা বেগম করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। তিনি বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনলাইনে বাসা থেকে যুক্ত হচ্ছেন। করোনা ফের ছড়িয়ে পড়ার কারণে জনসমাগম সীমিত করতে সরকার ঘোষিত ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, মহাপরিচালকসহ সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, কর্মচারী কোনো ধরনের ছুটি ভোগ না করে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত থাকেন। স্বাস্থ্য প্রশাসনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তা কাজে প্রভাব ফেলবে। করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের কারো শরীরে করোনা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আলাদা করে দিতে হবে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বা আক্রান্ত সন্দেহ করা হচ্ছে, এমন কারো সংস্পর্শে এসেছেন, এমন ব্যক্তিদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। এ ছাড়া কার্যালয়ের প্রত্যেক ব্যক্তিকে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী ৫০ শতাংশ জনবল নিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে অফিস করা হবে। করোনার মধ্যে অফিস করবেন কি না- জানতে চাইলে বলেন, মহামারীর মধ্যে আমরা এক বছর অফিস করছি।

গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ ধরার পড়ার পর জুলাই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আশঙ্কা থাকলেও শীতে সংক্রমণ ক্রমাগত কমতে থাকে। জানুয়ারির শেষ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত সংক্রমণ পরীক্ষার বিপরীতে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী টানা দুই সপ্তাহ সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধরা যায়। তবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ ফের বাড়তে থাকে। পরীক্ষার বিপরীতে ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে উঠেছে ২৩ শতাংশ। আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় লকডাউনের কথাও জানিয়েছে সরকার।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১