বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ April ২০২১

অনুমোদনহীন ডে কেয়ার সেন্টার চলবে না


শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে কেয়ার স্থাপন করতে হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন ও সনদ নিতে হবে। ডে কেয়ার থেকে শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুননেসা ইন্দিরা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১ সংসদে তোলেন।

এ ছাড়া এদিন মোংলা বন্দরের স্থাপনা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল-২০২১ এবং বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিল-২০২১ সংসদে উত্থাপন করা হয়। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১ পাস হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কেউ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে না। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালালে ২ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। দুই মাসের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এ আইন হলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণির কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার নিবন্ধন সনদ নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে।

বর্তমানে যেসব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, নতুন আইন পাস হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সেগুলোকে নিবন্ধন নিতে হবে। তখন সব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসবে। বিলে বলা হয়েছে, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটালে, তাতে সহায়তা করলে বা তথ্য গোপন করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

এ ছাড়া শিশু এবং ক্ষেত্রমতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিশুর অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ৩ মাসে একবার শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। বর্তমানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।

গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মোংলা বন্দরের স্থাপনা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল-২০২১ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সালে প্রণীত আইনগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এজন্য মোংলা পোর্ট অথরিটি অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬-এর পরিবর্তে নতুন এই আইন হচ্ছে। বিলে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে দেশের যে-কোনো স্থানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যালয় স্থাপন করা যাবে। বিলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ও স্থানকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা যাবে। প্রস্তাবিত আইনে বন্দরে পণ্য বোঝাই, সংরক্ষণ, খালাস ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজনে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অপারেটর নিয়োগের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

বিলে টোল, রেট, মাশুল ফাঁকির ঘটনায় এক মাসের জেল অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের অধীন যে অপরাধ হবে সেগুলো ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচার হবে। তবে মোবাইল কোর্টেরও বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বন্দরের কোনো স্থাপনা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিধি দিয়ে নির্ধারিত মেয়াদ, শর্ত ও পদ্ধতিতে অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আগের আইনে এটা ছিল না।

এ ছাড়া এদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিল-২০২১ সংসদে উত্থাপন করেন। দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম পরিচালনা এবং পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণে নতুন এই আইন হচ্ছে। বিলটি এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কোনো ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড পরিচালনার জন্য সরকারের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ থেকে সনদ নিতে হবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান ট্যুর অপারেটরগুলোকে নিবন্ধন সনদ নিতে হবে। নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সেবা সংশ্লিষ্ট আবাসন, আহার বা আপ্যায়ন, পরিবহন, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, পরিভ্রমণ সেবা বা অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে দলভিত্তিক বা একক ট্যুর আয়োজন ও পরিচালনা ও ট্যুর গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে তার জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। এই আইনের অপরাধ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচার করা যাবে।

যদিও বিলটি সংসদে উত্থাপনে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। বলেন, স্বাধীন ব্যবসার অধিকার সংবিধান দিয়েছে। ট্যুর অপারেটররা পর্যটনকে সারা বিশ্বে পরিচিত করালো তাদের কাজ ধূলিসাৎ করতে এই বিল। সরকার ব্যবসা সহজ করতে চাচ্ছে। আর প্রতিমন্ত্রী পায়ে বেড়ি পরিয়ে সাঁতার কাটতে পাঠাচ্ছেন।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রমে সহায়তা ও একটি বিধিবদ্ধ বিধানের আওতায় আনতে আইনটি হচ্ছে। এই আইনে তাদের কার্যক্রম কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না। প্যানডেমিক সময়ের মধ্যেও পর্যটন করপোরেশন যতদূর সম্ভব পর্যটন কার্যক্রম প্রমোট করেছে। জাতির পিতা পর্যটন করপোরেশন গঠন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্যুরিজম বোর্ড গঠন করেছেন। এই আইন ওই করপোরেশন ও বোর্ড গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে। টোয়াবসহ স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের সুবিধার জন্য এ আইন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে ফখরুল ইমামের আপত্তি সংসদ নাকচ করে দেয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন খাত একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটররা অন্তর্মুখী ও বিদেশগামী ট্যুর পরিচালনা করে থাকে। এ সকল ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশে প্রচলিত কোনো আইন না থাকায় অনেক সময় পর্যটকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম আইনের আওতায় পরিচালনা এবং পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। বলেন, আইনটি অনুমোদিত হলে পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত সেবাপ্রাপ্তি সহজতর হবে। পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ পর্যটনশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম সুষ্ঠু সুচারুভাবে আইনের আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

 

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১