বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১০ April ২০২১

ছুটির দিনে জমজমাট বইমেলা


অমর একুশে বইমেলা গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে জমজমাট ছিল। শুরুর দিকে ঢিমেতালে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণবন্ত রূপে ফেরে মেলা। শুধু দর্শনার্থী নয়, এদিন ক্রেতাসমাগমও ছিল গত কয়েক দিনের থেকে বেশি। প্রকাশকরা বলছেন, লকডাউনের শুরু থেকে যে হতাশাজনক একটি পরিস্থিতি ছিল, তা কাটিয়ে উঠেছে।

এদিকে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা হলে ওইদিন বই মেলা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। গতকাল সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রতিমন্ত্রী। সে হিসেবে বাংলা একাডেমিকে এক দিন আগেই বই মেলা শেষ করতে হবে।

করোনা মহামারীর কারণে এবার অমর একুশে বইমেলার ৩৭তম আসর ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে শুরু হয় গত ১৮ মার্চ। এই মেলা চলার কথা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করবে সরকার। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য আমরা কঠোর লকডাউনে যাচ্ছি। এটি হবে পরিপূর্ণ ও কমপ্লিট লকডাউন। যেখানে মানুষজন সবাই সহযোগিতা করবেন। বাসায় থাকবেন, বাইরে যাবেন না। চলাফেরা থেকে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সংযত আচরণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘লকডাউন শুরু হলে বইমেলা বন্ধ হয়ে যাবে। পুরোপুরি লকডাউন হলে মেলা খোলা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

অন্যদিকে গতকাল সরেজমিন মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দুপুর আড়াইটার পর থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করে বইমেলায়। বইমেলা বিকাল ৫টায় বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বই বিক্রি করতে দেখা গেছে অনেক স্টলে।

সংকট আর অপ্রাপ্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবারের অমর একুশে বইমেলা। নানা শঙ্কার মধ্য দিয়ে বইমেলা শুরু হলেও মেলার সময় নির্ধারণ নিয়ে ছিল নানা জটিলতা।

মহাকাল প্রকাশনীর বিক্রেতা মালেক বলেন, সকাল থেকেই আজকে বিক্রি কিছুটা বেশি। বিকালে মহাকাল স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

পার্ল পাবলিশার্সের স্বত্বাধিকারী হাসান বলেন, আজকে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভালো বিক্রি হয়েছে। ছায়াবীথির ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আজকের বিক্রি ও দর্শনার্থী দুটোই সন্তোষজনক। গত কয়েক দিন যে হতাশাজনক পরিস্থিতি ছিল, সেখানে কিছুটা আশার দিক আজ। ডেইলি স্টার প্রকাশনীর বিক্রেতা জাহিদ হাসান, গত কয়েক দিনের চেয়ে আজ বিক্রি হয়েছে কিছুটা বেশি। তবে গতবার যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো, সেখানে এবার প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

দ্য ইউনিভার্সাল একাডেমির প্রকাশক শিহাব উদ্দীন বলেন, ‘করোনার মধ্যে মেলা হওয়ায় এবার আমরা শুরু থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছি। শুরুর দিকে মেলার সময় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হওয়ায় মোটামুটি বেচাকেনা হচ্ছিল। এখন সেটাও হচ্ছে না। দুপুরে গরমের মধ্যে মানুষ মেলায় আসতে চান না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সময়টা অফিসের কারণেও আমরা অনেক পাঠক পাচ্ছি না। বিকাল ৩টা থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। তখন কিছু বেচাকেনা হয়। আমরা চাই- আর যে কদিন মেলা চলবে সময়টা পরিবর্তন করে বিকালে থেকে রাত পর্যন্ত করা হোক।’

সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল মুকুল মেলায় আসেন পরিবার নিয়ে। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেল ৫টায় মেলা বন্ধ হয়ে যায়। অফিস শেষে মেলায় আসার আর সময় থাকে না। সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মেলা হলে আমাদের মতো চাকরিজীবীদের জন্য সুবিধা হয়। তিনি বলেন, আজ ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে আসতে পেরেছি। অন্যান্য বারের মতো এবার মেলাও জমজমাট নয়। প্রতিবছর পাঠক-লেখকদের এক ধরনের মিলনমেলায় পরিণত হয় বইমেলা। এবার তার ছিটেফোঁটাও দেখছি না।

অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদত হোসেন বলেন, এমন একটা পরিস্থিতিতে এবার বইমেলা পড়েছে যেটা আমরা কেউই ভাবিনি। একে তো লকডাউন পরিস্থিতি, গণপরিবহন বন্ধ ছিল, তার ওপরে মেলা চলছে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত। যদিও গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে তবু পাঠক যে সময় মেলায় আসেন, আমাদের এখন সেই সময়টিতে মেলা বন্ধ করতে হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি আগামী দিনে ভালো কিছু হবে।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, আমরা তার বাইরে যেতে পারি না। এখন মেলা কমিটি যদি সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, তাহলে সে অনুযায়ী আমরা স্টল খোলা রাখতে পারব।’

গতকাল ৯ এপ্রিল ছিল বইমেলার ২৩তম দিন। এদিন মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায়, চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। গতকাল নতুন বই এসেছে ৮৮টি। এ পর্যন্ত বইমেলায় নতুন বই এসেছে ২৪২১টি।

মেলায় বিষয়ভিত্তিক বই : গল্প ১০, উপন্যাস ৯, প্রবন্ধ ৬, কবিতা ৩৪, গবেষণা ১, ছড়া ১, শিশুসাহিত্য ২, জীবনী ৩, রচনাবলি ০, মুক্তিযুদ্ধ ৪, নাটক ১, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ২, রাজনীতি ১, চি:/স্বাস্থ্য ০, বঙ্গবন্ধু ৩, রম্য/ধাঁধা ২, ধর্মীয়-১, অনুবাদ ০, অভিধান ০, সায়েন্স ফিকশন ২ এবং অন্যান্য ৩টি বই।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১