বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৩ April ২০২১

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি

ত্রুটিপূর্ণ সেতু ও জাহাজের বেপরোয়া গতি দায়ী


নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির জন্য এসকেএল-৩ জাহাজের বেপরোয়া গতি আর তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের ত্রুটিকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। বেঁধে দেওয়া সাত কার্যদিবসের মধ্যেই ১২ এপ্রিল নৌসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে ২৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম প্রতিবেদন জমা দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ ও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবেদনা বলা হয়েছে যাত্রীবাহী সাবিত আল হাসান লঞ্চকে ধাক্কা দেয়া এসকেএল-৩ জাহাজটি অনুমতি ছাড়াই চলাচল করছিল। সেতুর পিলার নদীর মধ্যে স্থাপন করা, নদীতে নির্মাণসামগ্রী রাখায় নৌপথ সরু হয়ে যাওয়াকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সেতুর পিলার সরিয়ে নদীর প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ছোট আকারের সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ক্রমান্বয়ে সরিয়ে দেওয়া, চালকদের অদক্ষতা ও অবহেলার বিষয়ে সচেতন করতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা, সার্ভেয়ারের সংখ্যা বাড়ানো, ঘটনাস্থল থেকে খেয়াঘাট সরানো ও অলস জাহাজ যততত্র পার্কিং বন্ধ করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে এসকেএল-৩ জাহাজের মাস্টার, নাবিকের জবানবন্দি, ডুবে যাওয়া লঞ্চ সাবিত আল হাসানের বেঁচে যাওয়া মাস্টার, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রায় তিন পৃষ্ঠাজুড়ে রয়েছে সুপারিশ। দুই পৃষ্ঠায় রয়েছে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের নাম ও দায়িত্ব।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জাহাজটি প্রথম শ্রেণির মাস্টার ওয়াহিদুজ্জামান চালাচ্ছিলেন। অপর দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চে তৃতীয় শ্রেণির চালক জাকির হোসেন ছিলেন। কার্গো জাহাজ চালকের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটির রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) থাকলেও সার্ভে রিপোর্ট ছিল না। জাহাজটি সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া চলাচল করে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারা লংঘন করেছে। 

উল্লখ্য, গত ৪ এপ্রিল যাত্রীবাহী সাবিত আল হাসান লঞ্চটি ডুবে গেলে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। ৮ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নোঙর করে রঙ পাল্টিয়ে ফেলা অবস্থায় এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজটি জব্দ ও নাবিকসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। দুর্ঘটনার পর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবদুছ ছাত্তার শেখকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১