আপডেট : ১৯ April ২০২১
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছর কঠোর লকডাউনে দরিদ্র পরিবারকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছিল। এবারো লকডাউনের মেয়াদ বাড়লে ঈদের আগে একই পরিমাণ অর্থ ও খাদ্য সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে লকডাউন দীর্ঘায়িত না হলে সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান। বাংলাদেশের খবরকে তিনি জানান, ‘অর্থ সহায়তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে করে থাকেন। আর খাদ্য সহায়তার বিষয়টি আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমরা মাঠ পর্যায়ে ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। লকডাউনে দরিদ্র মানুষদের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হলে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে নগদ সহায়তার জন্য ১২১ কোটি টাকা এবং বাকি ৪৫১ কোটি টাকা খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছরের মতো এবারো খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে কি-না সেটি নির্ভর করবে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির ওপর। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত রয়েছি। যদি লকডাউন বাড়ে তাহলে গতবারের মতো এবারো খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।’ জানা গেছে, গতবছরের মতো এবারো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের সময় দরিদ্র কয়েক লাখ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ‘প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার’ হিসেবে সরকারের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া প্রায় সোয়া কোটি দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এবার দ্বিতীয় দফা লকডাউনে তালিকাভুক্ত ৩৬ লাখ দরিদ্র পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে এসব টাকা পাঠানো হবে। এতে সরকারের ৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। গত বছর ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ২৬৮টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে প্রথম দফা লকডাউনে দরিদ্র ও কর্মহীন হওয়া সবাই এবারের তালিকায় থাকছে না। নতুন করে সংকটে পড়া দরিদ্র পরিবারকে এই তালিকায় যুক্ত করা হবে। এছাড়া গত বছর ৫০ লাখের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ পরিবার পিন ইনঅ্যাকটিভ থাকার কারণে অর্থ পাননি। তবে বিতরণ না হওয়া ওই ১০১ কোটি ১৪ লাখ টাকা এখনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারদের ব্যালেন্সশিটে জমা আছে, যা সরকারকে ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে, কর্মহীন ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের এই বরাদ্দ প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে পৌঁছানো সরকারের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। কারণ, গত বছর সরকারের এই বরাদ্দ চলে যায় অনেক ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে সচ্ছল মানুষের পকেটে। ফলে গত বছরের মতো এবারো হতদরিদ্র মানুষের টাকা যেন লুট না হয়, সেজন্য সরকারকে ভিন্ন পলিসি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এ প্রসঙ্গে, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘কর্মহীন দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে কার্যকর হবে না। কোন বস্তিতে কোন পরিবার খাবার পাচ্ছে না বা আর্থিক সংকটে আছে- সেই তথ্য ডিসি-ইউএনওদের কাছে থাকবে না। কারণ তারা মাঠে যান না। তারা হয়তো আগেরবারের মতো ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের কাছে এ ধরনের পরিবারের তালিকা চাইবে। তখন জনপ্রতিনিধিরা প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে নিজেদের স্বজনদের তালিকা করবে, যেমনটি গতবার হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার মালয়েশিয়া, পাকিস্তানের মতো একটি নম্বর দিয়ে কর্মহীন দরিদ্রদের কাছ থেকেই সহায়তার জন্য এসএমএস পাঠাতে বলতে পারত। তারা কোথায় কী কাজ করতো, কবে থেকে কর্মহীন- এসব তথ্যসহ এসএমএস পাঠানোর পর তা যাচাই-বাছাই করে তাদের সহায়তা দিলে তা যৌক্তিক হতো।’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১